28583

মরা গোমতি নদীর পাড়ের উচ্ছেদ প্রসঙ্গে (পর্ব-০২)-ইয়াহিয়া মজুমদার

*একটি মরা নদী ও উচ্ছেদ আতংক –

ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা আমাদের এই গোমতি নদীটি শহরকে স্পর্শ করেই একসময় তার প্রমত্তা যৌবনকে প্রদর্শিত করতো।তখনকার সময়ে আমাদের অঞ্চলের একটি বিরাট এলাকা নদীর বুকে ছিলো।যেমন বর্তমানে যে কোতয়ালী থানা রয়েছে তা ছিলো নদীর ভিতর দিকে।তাছাড়া কাপ্তানবাজার,গাংচর,শাহসুজা মসজিদ রাস্তা হয়ে পানপট্টি দিয়ে সোজা চকবাজার হয়ে টিক্কারচর গিয়ে এই নদীর আইল বা বাঁধ টি শেষ হয়।সহযেই অনুমেয় রিয়েল গোমতি নদীটি তখন কতবড় মাপের ছিলো।
নদী যত বড়ই থাকুক ১৯৩০ সালের আগে থেকেই এই অঞ্চলে বৈধভাবে বসবাসেরও যথেষ্ট প্রমান রয়েছে।এর একটি হলো শাহসুজা মসজিদ। ১৬৫৮ সালে নির্মিত মসজিদটি প্রমান করে এখনে বসতি ছিলো। এছাড়াও ফারুকী হাউজ স্টেট,কোতোয়ালি থানা উল্লেখযোগ্য।
কুমিল্লা শহরকে নদীর ভাংগনের কবল থেকে রক্ষা করতে ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান একটি বৃহৎ পরিকল্পনা নেন।
সেটা ছিলো গোমতি নদীকে অনেকদুর দিয়ে খনন করে ঘুরিয়ে নেয়া।যথারীতি তিনি তাই করলেন।শহর রক্ষা হলো।এটা করতে গিয়ে নদীর যে অংশটি বাদ পরে গেলো,সেটাই হলো মরা গাং বা মরা গোমতি।
১৯৬২ সালের পর নদীর দুইধারে জায়গাগুলো কেউ কেউ সরকার কিংবা পানি উন্নয়ন থেকে অবমুক্ত করে নিয়ে এসে হাজার হাজার পরিবার বসবাস শুরু করল।
এদের বেশির ভাগের কাছেই সি,এস এবং আর,এস ডকুমেন্ট রয়েছে।
৭৫” র পর হঠাৎ এসব বাসিন্দাদের মধ্যে কিছু কিছু বাসিন্দারা খাজনা দিতে গেলে খাজনা নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
ইতিমধ্যে এইসব অঞ্চলে লাখ লাখ মানুষের বসতি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কেউ একবারও ভাবেনি তাদের একদিন খাজনার কাগজের জন্যই চরম আতংকে দিন কাটাতে হবে।
এখন সরেজমিনে যা জানা যাচ্ছে,এখানে তিন ধরনের বাসিন্দা বিদ্যমান।১।ভুতপুর্ব সি,এস,আর,এস সহ যারা বি,এস করেছে। ২।যাদের সি,এস আর,এস আছে কিন্তু বি,এস নেই ।৩।যারা যবরদখলে নদীর বুকে ঘরবাড়ি করে বসে আছে।যাদের কাছে কাগজপত্র কিছুই নেই।
এই তিন ধরনের মানুষ এখানে আছে।রাস্ট্র তার প্রয়োজনে যেকোনো যায়গা একুয়ার কিংবা কেনা যেভাবেই হোক নিতে পারে।কিন্তু প্রয়োজনীয়তা টা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমাজ যা ভাবছে তা হলো হাতিরঝিল করতে গিয়ে যদি লাখ লাখ মানুষকে খোলা আকাশের নীচে গিয়ে দাঁড়াতে হয়,তা হবে আমাদের জন্যই লজ্জার।এখানে লক্ষ লক্ষ বৃক্ষ রয়েছে।ফলজ,বনজ,ঔষধি গাছও রয়েছে চোখে পরার মত।
এ কয়েকদিনের এসাইনমেন্টে আমার যা ধারনা হয়েছে বা মানুষ লিখছে তা হলো উন্নয়নের গতি ঠিক রেখে শহরের সৌন্দর্যের কাজেও বাধা না দিয়ে,সাধারণ মানুষের বাড়িঘর গুলিকে রক্ষা করে প্রকল্পের কাজটি করলে মানুষের কল্যানে যে সরকার পাশে থাকে তা প্রস্ফুটিত হবে।
মানুষ আসলে এখন দিশেহারা হয়ে গেছে।সরকারের কোনো কর্তাব্যক্তি যদি তাদের পাশে আসেন তবেই বিষয়টি একটি সুন্দর সুরাহা হয়ে যায়।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনেকরি যেহেতু মাননীয় মেয়র মহোদয় তার বক্তব্য আগেই দিয়েছেন তাহলে কুমিল্লার গণমানুষের নেতা,তিনবার জাতীয় সংসদ সদস্য আকম বাহাউদ্দীন বাহার ভাই এবং আরও যারা নেতৃবৃন্দ আছেন তারা যদি বিষয়টি আমলে নেন তাহলে হয়ত আজকে যে মানুষের বাড়ীঘর ভেংগে ফেলার আতংক তা আর থাকবেনা।
আমাদের দেশে যেখানে বার্মা থেকে ১৪লাখ রোহিঙ্গারা এসে বসবাস করছে,বছরে এক লাখ করে নতুন বাচ্চা পয়দা করছে সেখানে সর্বনিম্ন ৫৫ থেকে ২৫০বছর পুরানো বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হবে এটা কেউ মেনে নিতে পারবেনা।তবে হঠাত আসা নদীর বুকে বসাদের উচ্ছেদ করা হউক।
মরা গোমতির জায়গাটি ভৌগোলিক ভাবেও এমন কোন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নয় যে এখনই এখানের ভুতপুর্ব বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করতে হবে।
কুমিল্লার মাননীয় এমপি মহোদয় ও মাননীয় মেয়র মহোদয় ছাড়াও মাননীয় মহিলা সাংসদ বৃন্দ,জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আমি যোগাযোগের চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আমার মরা নদীর অংশ হবে আমাদের জন্য আশীর্বাদ,অভিশাপ নয়।
চলবে।

ads
ad

পাঠকের মতামত