আন্তর্জাতিক ডেস্ক; সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি রাজধানী রিয়াদে দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। খবর আল আরাবিয়ার।
ইরাকের সরকারি বিবৃতির বরাতে দেশটির সংবাদ সংস্থা আইএনএ জানায়, বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতির সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। এ ছাড়া সৌদি আরব ও ইরাকের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন তারা।
বৈঠকে আল-জাইদি বলেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কোনো প্রতিবেশী দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে বাগদাদের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানান ইরাকি প্রধানমন্ত্রী। সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলারও সমালোচনা করেন তিনি। আল-জাইদি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে।
অন্যদিকে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং সংলাপ এগিয়ে নিতে ইরাকি সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি সৌদি আরবের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বড় শহরের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে এর আগে জুলাইয়ে আল-জাইদির পরিকল্পিত রিয়াদ সফর বাতিল করা হয়েছিল। পরে আগস্টে বাগদাদে সৌদি গোয়েন্দাপ্রধান খালিদ বিন আলী আল-হুমাইদানের সঙ্গে বৈঠকেও ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য দেশে হামলা চালাতে না দেওয়ার অঙ্গীকার করেন আল-জাইদি। ওই বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় জোরদার নিয়েও আলোচনা হয়।
অর্থনৈতিক সহযোগিতায়ও গুরুত্ব
নিরাপত্তার পাশাপাশি বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণও আল-জাইদির সফরের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। মঙ্গলবার আশরাক আল-আওসাত পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে সৌদি আরব ও ইরাকের মধ্যে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে যৌথ পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী।
নিবন্ধে ইরাকের ‘ডেভেলপমেন্ট রোড’ প্রকল্প এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে পরিবহন সংযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন আল-জাইদি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইরাকের ভূমিকা আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, দুর্নীতি দমন এবং ব্যবসাবান্ধব আইনি পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে। আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং নৌপথ ও অবকাঠামোর ওপর বাড়তে থাকা হুমকির মধ্যে নিজেদের তেল রপ্তানি সুরক্ষিত রাখতে চায় ইরাক।
রিয়াদ সফর শেষে উপসাগরীয় দেশগুলোতে সফরের অংশ হিসেবে কুয়েত যাওয়ার কথা রয়েছে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর।






