কুমিল্লার খ্যাতনামা ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ত্রিদীব সাহা ঝন্টু আর নেই
মাইনুল হক: কুমিল্লার খ্যাতনামা ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ত্রিদীব সাহা ঝন্টু (৬৮) আাজ শনিবার সকাল ৬.৩০মিঃ ঢাকার এ্যাপেলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্রেন স্ট্রোকে পরলোক গমন করেন।
স্বাধীনতার পর কুমিল্লার ক্রীড়াঙ্গন কে যারা উজ্জ্বল করেছেন ঝন্টু ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যনম । জাতীয় ব্যাডমিন্টনে একক ও দলীয় ভাবে চ্যান্পিয়ান হয়েছেন একাধীকবার। কুমিল্লার ক্রীকেট অঙ্গন দাপিয়েছেন অনেক বছর। একাধীক বার সুযোগ পেয়ে ও ঢাকায় নিয়মিত খেলতে চাননি। কুমিল্লায় জন্ম ও ব্যবসা থাকলেও সম্প্রতি ঢাকায় স্হায়ী ভাবে বসবাস করতেন।
ত্রিদিব সাহা ঝন্টুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, কুমিল্লা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন সভাপতি আরফানুল হক রিফাত কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাদল খন্দকার সহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সকল সদস্য ও খেলোয়াড় বৃন্দ।
কুমিল্লার ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ বদরুল হুদা জেনু তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন নিচে তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
স্বভাবজাত খেলোয়াড়ঃ ত্রিদীব সাহা ঝন্টু
খেলোয়াড় হতে গেলে অনেক পরিশ্রম করতে হয়, কিন্তুু এ কথাটি ঝন্টু’দার খেত্রে প্রজোয্য নয়। ক্রিকেট এবং ব্যাডমিন্টন খেলায় তার পারদর্শিতা ছিল নজরকাড়া। তার সময়ে এ দুটো খেলায় তিনি ছিলেন চৌকষ। ১৯৭৪ সালে ঢাকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমনিশিয়ামে অনুস্ঠিত জাতীয় বেডমিন্টন প্রতিযোগিতার কিছু খেলার তাঁজা স্মৃতি এখনো আমার চোখে ভাসে। ম্যানস্ ডাবলসে তার পার্টনার ছিলেন কান্দিরপাড়ের খাদী কুটির শিল্পের তপন ভট্টাচার্য (ঘি তপন)। ফাইনালে ঝন্ট-ুতপন জুটি জাতীয় রানার আপ হয়।তাদের প্রতিপক্ষ ছিল দেশের শীর্ষ জুটি মন্টু-জ্বিলানী।ঝন্টুদার তীব্রগতীর স্ম্যাশ দর্শকদের দারুন প্রশংশা কুড়ায়।মিক্সড ডাবলে কুমিল্লার আরেক মহিলা শাটলার পারভীন (ডাঃশহীদুল্লার মিসেস)এর সাথে জুটি বেধে, মন্টু-রুমানা জুটির বিরুদ্ধে লড়াই করে জাতীয় রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
জেলা ক্রীড়া সংস্হার আয়োজনে বিভিন্ন ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় তার শিরোপালাভ ছিল প্রত্যাশিত।
ক্রিকেট খেলার মত একটি কঠিন পরিশ্রম ও অনুশীলন নির্ভর খেলায় খুব বেশী অনুশীলন করতেন না। কিন্তুু মাঠে নামার পর ব্যাট ও বল হাতে তার সফলতা ছিল অনায়াসলব্দ। তবে ফিল্ডিংটা ছিল ঠিক তার বিপরীত। স্হানিয় লীগ ক্রিকেটে বেশির ভাগ সময় ইউনিয়ন অথবা ঈগলেটস্ ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। ঢাকায় অনুষ্ঠিত দামাল সামার ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ঈগলেটস ক্লাবের হয়ে অনেক খেলেছেন। ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লীগে পি ডাব্লিউ ডি ক্লাবের হয়ে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ত্রিদীব সাহা ঝিন্টুর হ্যাট্রিক আছে।
কুমিল্লা জেলা ক্রিকেট দলে শেষবার খেলেন ১৯৯১ সালে।সেবার জাতিয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতার আন্চলিক পর্যায়ের খেলা অনুস্ঠিত হয় পাবনায়। জেলা ক্রিকেট দল গঠন প্রক্রিয়ায় অনেক খেলোয়াড়ই অধিনায়ক হওয়ার যোগ্যতা রাখে,এমন অবস্হায় যখন ঝ্ন্টু’দা তার শেষ খেলায় অধিনায়ক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে সকল খেলোয়াড় সানন্দে তা মেনে নেয়। বিশেষ করে এমদু ও পপলু সকল খেলোয়াড়দের হয়ে তাদের আন্তরিক সমর্থন প্রকাশ করেন।কারন ঝিন্টু’দার নম্র ও বিনয়ী আচরন সকলের কাছেই ছিল দারুন গ্রহনযোগ্য।











