হজের প্রস্তুতি জোরদার: মক্কার ডেপুটি আমিরের কাবা চত্বর পরিদর্শন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পবিত্র হজের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছে পবিত্র নগরী মক্কা। আসন্ন হজ মৌসুমকে সামনে রেখে মসজিদুল হারাম ও মাতাফ এলাকার সার্বিক প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মক্কার ডেপুটি আমির এবং হজ-ওমরাহ কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল।
রোববার (১০ মে) তিনি মসজিদুল হারাম এবং আল-নাওয়ারিয়াহ হাজী অভ্যর্থনা ও নির্দেশনা কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হজযাত্রীদের সেবার মান উন্নয়ন ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই এই পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়।
পরিদর্শনের সময় প্রিন্স সৌদ হাজীদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন সেবা ও অপারেশনাল কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, চলাচল সহজীকরণ এবং উন্নত সেবাদানের বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। হজযাত্রীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে ইবাদত পালন করতে পারেন, সে বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এসময় তিনি গ্র্যান্ড মসজিদের তৃতীয় সৌদি সম্প্রসারণ প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করেন। সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয় ও হারামাইন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে চলমান এ বৃহৎ প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। লক্ষ্য একটাই— নামাজি ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য আরও আধুনিক, সহজ ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
পরবর্তীতে প্রিন্স সৌদ আল-নাওয়ারিয়াহ এলাকায় অবস্থিত হাজী অভ্যর্থনা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন হজ ও ওমরাহ বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ মাশাত এবং মক্কার মেয়র মুসায়েদ আল দাউদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অভ্যর্থনা কেন্দ্রে তিনি ‘প্রি-অ্যারাইভাল রুম’ বা আগাম বার্তা কক্ষের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। অত্যাধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সেখানে হাজীদের আবাসন, বাসের অবস্থান এবং ট্রাফিক পরিস্থিতি বড় পর্দায় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হাজীরা পৌঁছানোর আগেই তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে কি না এবং পরিবহন ব্যবস্থা সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না— সবকিছু এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে মনিটর করা হয়।
এছাড়া হাজীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বাস পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এবং অভ্যর্থনা হলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন ডেপুটি আমির। সৌদি কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, আল্লাহর মেহমানরা যেন মক্কায় আগমন থেকে বিদায় পর্যন্ত নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে তাদের হজ ও ইবাদত সম্পন্ন করতে পারেন।











