44745

বিএনপি চায় একটি দুর্যোগপূর্ণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ: তাজুল ইসলাম

মাইনুল হক: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ আজকে শান্তিপূর্ণ দেশ, এ দেশটাকে নষ্ট করার জন্য বিএনপি চেষ্টা করতেছে। তারা চায় একটি দুর্যোগপূর্ণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ। আপনারা কি জন্য ক্ষমতা চান, উন্নয়নের জন্য? কি কি করেছেন দেখান, দুই টার্মত ক্ষমতায় ছিলেন। আর আওয়ামী লীগ কি করেছে এটাও দেখেন। তত্তাবধায়ক সরকার আসলে বিষয় না। বিষয়টি হল বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে হবে। আর বিএনপি যদি ক্ষমতায় না আসে তাহলে এটা সুস্থ নির্বাচন না। বিএনপি ক্ষমতায় আসলেই সুষ্ঠ নির্বাচন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা হলো শুভংকরের ফাঁকি। এর ফাঁক দিয়ে অজগর সাপ ঢুকে সব খেয়ে ফেলতে পারে।

আজ শনিবার সকালে কুমিল্লা নগরীর টাউন হলের বীরচন্দ্র গণ পাঠাগার ও নগর মিলনায়তনে জেলা পরিষদ আয়োজিত “স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্থানীয় সরকারের অগ্রযাত্রা” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ads

তাজুল ইসলাম বলেন, কেন আমি আওয়ামী লীগ করি অথবা আওয়ামী লীগের জন্য অ্যাডভোকেসি করি, এটার পিছনে আমার ইমোশন যত আছে তার চেয়ে অনেক বেশি যুক্তি আছে। এর পিছনে যথেষ্ট কারণ আছে। কারণ দেশের সকল পরিবর্তন গুলো আওয়ামী লীগের মাধ্যম দিয়ে হয়েছে। বিএনপি ৯১ সাল থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। এক ছটাক বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নাই। ১৭ জন কৃষককে সারের জন্য গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেছেন। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল ক্ষমতায় থাকা কালে কোন বিদ্যুৎ উৎপাদন করেন নাই। আওয়ামী লীগ ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর খাদ্যে সংয়সম্পূর্ণ করা হয়েছে। ৪০ লক্ষ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে যায়। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর ৫০লক্ষ টন খাদ্য ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। যখন এটা নিয়ে পার্লামেন্টে কথা হয় তখন বিএনপির অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান পার্লামেন্টে বলেছিলেন খাদ্যঘাটতি থাকলে ভাল ভিক্ষা পাওয়া যায়, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবাদ করে বলেছিলেন ভিক্ষুকের জাতি হওয়ার জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হয় নাই। বিএনপি সকল কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দিল। ঢাকা থেকে চিটাগং ফোর লেন ছিল বন্ধ করে দিল। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর অনেক রেল লাইন বন্ধ করে দিল। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ১৫৬ টি উপ স্টেশন স্থাপন করলেন এবং রেল লাইন তৈরী করলেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে আগে সাত আট ঘন্টা সময় লাগত, এখন ৪ ঘন্টার ভিতরে চট্টগ্রাম পৌছানো যায়। এটাই হল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য।

ads

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, আপনারা কিবরিয়া সাহেবকে হত্যা করেছেন, আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করেছেন, শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য গ্রেনেড হামলা করে আইভি রহমানসহ অনেককে হত্যা করেছেন। ৬৪ জেলায় একসাথে বোমা পুঠিয়েছেন। বাংলা ভাইয়েরা মানুষ মেরে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছেন। দুই জন বিচারপতিগণ গুলি করে হত্যা করেছেন। চট্টগ্রামে বাড়িতে তালা তাগিয়ে এগারোজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এ সব হল আপনাদের অর্জন। এখন এগুলোর বিনিময়ে আপনারা নাকি ক্ষমতায় যাবেন।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান বাবলুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা আহমেদ মেরী, কুমিল্লা সিটি মেয়র আরফানুল হক রিফাত,জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বিপিএম(বার), কুমিল্লা বারের পিপি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম সেলিম, জেলা সিভিল সার্জন নাছিমা আক্তার, আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম টুটুল, মুরাদনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ড. আহসানুল আলম সরকার কিশোরসহ আরও অনেকে।

এসময় অনন্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর উন্নয়ন সমন্বয়ক মো: কামাল আহমেদ, লাকসাম পৌর মেয়র আবুল খায়ের, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলরগণসদস্যসহ জেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

ad

পাঠকের মতামত