পুতিনকে বৈঠকের আহ্বান জেলেনস্কির : সমর্থনে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরুর জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা তার এই আহ্বানকে সমর্থন দিয়েছেন।
রোববার লন্ডনে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা-বিষয়ক বৈঠকের পর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে জেলেনস্কি লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের সঙ্গে বৈঠক করেন। লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
জেলেনস্কিকে সঙ্গে নিয়ে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে নেতারা বলেন, যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা ও পরবর্তী আলোচনা এগিয়ে নিতে তারা ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংলাপের প্রস্তাবকে সমর্থন করছেন। এ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সক্রিয় অংশগ্রহণও থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান যুদ্ধফ্রন্ট বা যোগাযোগ রেখাকে আলোচনার সূচনা বিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
এতে আরও বলা হয়, বল প্রয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পরিবর্তন করা যাবে না।
গত বৃহস্পতিবার এক খোলা চিঠিতে জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাব দেন।
তবে পুতিন সেই প্রস্তাব নাকচ করে বলেন, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কোনো অর্থ তিনি দেখেন না।
রোববার সন্ধ্যায় স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান, তিনি কিয়েভে রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন এবং তার মাধ্যমে পুতিনের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন।
ক্রেমলিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর আব্রামোভিচের ওপর যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
তিনি জানান, পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের অনুরোধও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এর আগে রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি জানান, সোমবার তিনি ব্রিটেনের রাজা চার্লস তৃতীয়-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
লন্ডনে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও যুদ্ধক্ষেত্রে এর কোনো তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা যায়নি।
সোমবার ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় যাত্রীবাহী ট্রেনের একজন চালক নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছেন বলে টেলিগ্রামে জানিয়েছেন ক্রিমিয়া অঞ্চলের মস্কো-সমর্থিত প্রধান সের্গেই আকসিওনভ।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে, রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে একের পর এক ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্র নিক্ষেপ করে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, এর একটি হামলায় চেরনোবিল বিপর্যয় এলাকার কাছে একটি পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের পারমাণবিক জ্বালানি সংস্থা এনারগোঅ্যাটম জানায়, হামলার পরও সেখানে বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ব্যবহৃত জ্বালানি গ্রহণের ভবনটি আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মস্কো ও কিয়েভ পরস্পরের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা আরও জোরদার করেছে।
বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে সংযুক্ত করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপ, পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা, যা সম্মিলিতভাবে দনবাস নামে পরিচিত। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের বড় অংশও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।











