16859

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে নারীর ঝুঁকি

ডেস্ক রিপোর্ট: লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যকে আরো বাড়িয়ে তুলছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, যা নারীদের খুব বেশি ঝুঁকির মুখে ফেলছে। গত শনিবার আনটোল্ড টেলস অব উইমেন চ্যাম্পিয়নস (নারী চ্যাম্পিয়নদের না-বলা গল্প) শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনায় এই অভিমত উঠে আসে।

ইউএন উইমেন ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট যৌথভাবে এর আয়োজন করে। অধিবেশনটির সভাপতিত্ব করেন সূচনা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও জলবায়ু ঝুঁকি ফোরামের থিম্যাটিক অ্যাম্বাসাডর সায়মা ওয়াজেদ।

ads

আলোচনায় বলা হয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নারী ও মেয়েদের শুধু ‘ভিক্টিম’ বা ভুক্তভোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক পরিণতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং কমিউনিটি রেসিলিয়েন্স তৈরিতে সক্রিয় জনগোষ্ঠী হিসেবে পুরুষদেরই উপস্থাপন করা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারীদের লড়াইয়ের চিত্র ফুটে ওঠে না। তাই ইউএন উইমেন এই ভার্চুয়াল সংলাপের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নারীর শক্তি ও সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

ইউএন উইমেন জানায়, অধিবেশনটিতে গ্রামীণ থেকে শহুরে, স্থানীয় থেকে জাতীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক স্তরের জলবায়ু পরিবর্তন সংকটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নারী নেত্রীদের একত্র করা হয়েছিল। সেখানে তাঁরা তাঁদের অনুপ্রেরণামূলক গল্পগুলো বলেন এবং এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

ads

অধিবেশনটিতে তৃণমূলের নারী চ্যাম্পিয়নদের ছয়টি অজানা গল্প ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, খুলনা ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলের। জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলায় তাঁরা ক্লাইমেট প্রটেস্টর, প্রতিবেদক, দুর্যোগ প্রস্তুতি নেতা, নারী উদ্যোক্তা, সংস্কারক ইত্যাদি বহুমুখী ভূমিকা পালন করছেন। তাঁদের বক্তব্য থেকে উঠে আসে, সমাজে বিদ্যমান লিঙ্গবৈষম্য আমাদের তৈরি করা, এটি পূর্বনির্ধারিত ছিল না। সুতরাং নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে কোনো অবিচার হওয়া উচিত নয়।

সাইক্লোন প্রস্তুতি কর্মসূচি সাতক্ষীরার ইউনিট লিডার মাসুরা পারভিন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময় আমি একমাত্র নারী স্বেচ্ছাসেবক পুরুষের সঙ্গে বাইরে কাজ করেছি এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের নিজের কাঁধে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েছি।’

অংশগ্রহণকারী ও আলোচকরা ভিডিও সিরিজ থেকে প্রাপ্ত ফলের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বলেন, নারী যদি সমাজ থেকে যথাযথ সমর্থন না পান তবে প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে বিকশিত করতে পারেন না। নারীদের বিকাশের জন্য প্রয়োজন একটি সক্ষম পরিবেশ। কারণ একজন নারীর বিকাশ মানে পরিবার, সমাজ ও গোটা দেশের বিকাশ।

সভায় বক্তব্য দেন আইসিসিসিএডির পরিচালক অধ্যাপক সালিমুল হক, সমাজকর্মী খুশী কবির, ইউসিএলের অধ্যাপক ড. মরিন ফোর্ডহ্যাম, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আশরাফুন্নাহার মিষ্টি, কুড়িগ্রাম সদরের ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা বেগম আল্পনা, সাতক্ষীরা থেকে বিন্দু নারী সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক জান্নাতুল মাওয়া, সাইক্লোন প্রস্তুতি কর্মসূচির সাতক্ষীরা ইউনিটের নেতা মাসুরা পারভিন, কুড়িগ্রামের নারী অ্যাসোসিয়েশন ফর রিভাইভাল অ্যান্ড ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন, খুলনার অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিস্ট্রেস ওয়েলফেয়ারের নির্বাহী পরিচালক লিপিকা রানী বৈরাগী এবং সাতক্ষীরা দক্ষিণের মশাল পত্রিকার সাংবাদিক জাহিদা জাহান মৌ। ইউএন উইমেন বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের অফিসার ইনচার্জ দিলরুবা হায়দার অধিবেশনটি পরিচালনা করেন।

ad

পাঠকের মতামত