63565

পারমাণবিক ছাতা ভাগাভাগি নিয়ে মিত্রদের সাথে আলোচনায় জার্মানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জার্মানিতে নিজস্ব পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলো একটি যৌথ বা ভাগ করা পারমাণবিক ছাতার ধারণা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত আসছে না বলে জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মের্জ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী জোটনীতি থেকে সরে আসার কারণে আটলান্টিক অঞ্চলে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এই আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, “আমাদের সামনে বেশ কয়েকটি কৌশলগত ও সামরিক নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনও আসেনি।”

ads

জার্মানি বর্তমানে নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ১৯৬৯ সালে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) এবং ১৯৯০ সালে দেশটির পুনর্মিলনের পথ খুলে দেওয়া ‘ফোর প্লাস টু’ চুক্তির আওতায় এ ধরনের অস্ত্র উন্নয়ন নিষিদ্ধ।

তবে মের্জ বলেন, এসব চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো অংশীদারদের সাথে যৌথ সমাধান নিয়ে আলোচনা করতে জার্মানিকে বাধা দেয় না। ইউরোপে এই দুটি দেশই একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র।

ads

“এই আলোচনা চলছে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিদ্যমান পারমাণবিক ভাগাভাগির ব্যবস্থার বিরোধী নয়,” বলেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর, বিশেষ করে তার বৃহৎ পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর নির্ভর করে আসছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা ও চাপের মুখে ইউরোপের অনেক দেশ সামরিক ব্যয় বাড়াচ্ছে।

ন্যাটোর মিত্র ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রস্তাব, ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি এবং পরে তা প্রত্যাহার—এসব পদক্ষেপে ওয়াশিংটনের ইউরোপীয় মিত্ররা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। ট্রাম্প অতীতে আরও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যেসব দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যয় করছে না, যুক্তরাষ্ট্র তাদের রক্ষায় এগিয়ে নাও আসতে পারে।
এদিকে জার্মান পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান থমাস রোয়েক্যাম্পও মের্জের বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, জার্মানির কাছে এমন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে, যা একটি যৌথ ইউরোপীয় পারমাণবিক উদ্যোগে ব্যবহার করা যেতে পারে।

মের্জের মধ্য-ডানপন্থী ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দলের এই নেতা জার্মানির ওয়েল্ট টিভিকে বলেন, “আমাদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বা ওয়ারহেড নেই, তবে আমাদের উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে, যা একটি যৌথ ইউরোপীয় প্রকল্পে অবদান রাখতে পারে।”

ad

পাঠকের মতামত