মাইনুল হক: যে জাতি তার কৃতি সন্তানদের সম্মান করে না, সে জাতির সামনে কৃতি সন্তান সৃস্টি হয় না। কৃতি সন্তানদেরকে সম্মানিত করতে, কৃতি সন্তানদেরকেই ব্যবহার করুন বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আকম বাহা উদ্দিন বাহার।
শুক্রবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা টাউন হল মিলনায়তনে নবাব ফয়জুন্নেসা কমলাঙ্ক সাহিত্য স্বর্ণ পদক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সাংসদ বাহার বলেন, আমাদের সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ পুরুষ হচ্ছে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আমাদের সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ পুরুষ হচ্ছে কাজী নজরুল ইসলাম। আমি মনে করি কবি কাজী নজরুল এবং রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য কে বাস্তবায়ন করেছে বাঙালির জন্য, আমাদের প্রিয় নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু জন্মগ্রহণ না করলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনেক গানের মধ্যে আমার সোনার বাংলা গানটি থাকত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারণে জাতীয় সংগীতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে। কাজী নজরুলের যেই কবিতা এখনও আমাদের মনে দাগ কাটে, “কারার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙ্গে ফেল”। বঙ্গবন্ধু ছাড়া কেউ ভাঙ্গতে পারে নাই। এই জাতির কারাগারের যে লৌহ কপাট, এটা ভেঙ্গে দিয়েছে আমাদের প্রিয় নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তাই সকল ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশ চিন্তা করার কোন সুযোগ নাই।
এরআগে অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সদ্য প্রয়াত কবি আসাদ চৌধুরী ও ফখরুল হুদা হেলাল স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোঃ নুরুল হুদা। অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ভারতের কবি সৈয়দ হাসমত জালাল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমলাঙ্ক সাহিত্য একাডেমির সভাপতি প্রফেসর ড. আলী হোসেন চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা সাহিত্যের সাবেক অধ্যাপক ভাষাবিদ ড. মোঃ মাহাবুবুল হক।
প্রবন্ধ ও গবেষণায় পদক পেয়েছেন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক শান্তিরঞ্জন ভৌমিক। কবিতায় স্বর্ণ পদকের গ্রহণ করেছেন ঢাকার ভিকারুনেছা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ নাসরীন নঈম। শিশু সাহিত্যে স্বর্ণ পদক পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জাহান। কথা সাহিত্যে স্বর্ণ পদকে ভূষিত হয়েছেন সিলেট বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রশান্ত মৃধা।
কমলাঙ্কের আয়োজনে প্রথম এ সম্মেলনে ছিলো ঢাকা, চট্রগ্রাম, আগরতলা, কোলকাতা ও কুমিল্লার আবৃত্তি শিল্পীদের আবৃত্তি উপস্থাপন। এরপর নটরাজ নৃত্য সংগঠনের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।






