কভিড পরবর্তী উত্তর কোরিয়ায় প্রথমবার রাশিয়া-চীনের প্রতিনিধিরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়া ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে উত্তর কোরিয়ার। এ সময় পিয়ংইয়ংয়ে প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে বন্ধুত্বের পরিচয় দিচ্ছে চীন ও রাশিয়া।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, গতকাল মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) রাতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুর নেতৃত্বে দেশটিতে পৌঁছেছে রুশ প্রতিনিধিদল। আজই যুক্ত হবে চীনা প্রতিনিধিরা।
কোরিয়ান যুদ্ধ সমাপ্তির ৭০তম বার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। বরাবরের মতোই আয়োজিত হবে বড়সড় সামরিক কুচকাওয়াজ।
মহামারী এড়াতে উত্তর কোরিয়া সীমানা বন্ধ করার পর থেকে এবারই প্রথম পিয়ংইয়ংয়ে সফর করছে দুই দেশের প্রতিনিধিদল।
২০২০ সালের শুরুতে সব ধরনের বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বন্ধ করে দেয় উত্তর কোরিয়া। এমনকি প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। খাদ্য ও ওষুধের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিও বন্ধ থাকে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বছরের ‘বিজয় দিবস’ কুচকাওয়াজে চীনা ও রুশ দূতদের অন্তর্ভুক্তি কভিড বিধিনিষেধের সম্ভাব্য শিথিলকরণের ইঙ্গিত দেয়। অবশ্য কয়েক সপ্তাহ আগে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে উত্তর কোরিয়ানদের মাস্ক ছাড়া ঘুরতে দেখা যায়।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী শোইগুর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার গভীর রাতে উত্তর কোরিয়ায় পৌঁছায়। পিয়ংইয়ংয়ের একটি বিমানবন্দরে তারা উষ্ণ অভ্যর্থনা পান।
একটি লাল ব্যানারে কোরিয়ান ও রুশ ভাষায় লেখা ছিল, ‘রাশিয়ান ফেডারেশনের কমরেড প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু স্বাগতম।’
বেইজিংয়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারক কমিটির সদস্য লি হংঝং।
চীন ও রাশিয়া উভয়ই উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘদিনের মিত্র। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সমর্থন জানিয়ে বেইজিং ১৯৫০ সালে উত্তরে সেনা পাঠিয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের আগে পর্যন্ত যুদ্ধে তাদের সমর্থন করেছিল।
ইউক্রেন যুদ্ধের পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় উত্তর কোরিয়া থেকে এ আমন্ত্রণ এল। অন্যদিকে তাইওয়ান ঘিরে কারণে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কও বিপর্যস্ত।
এর মাঝে গত সপ্তাহের দক্ষিণের সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর কোরিয়ায় ঢুকে পড়েছে মার্কিন সেনা ট্রাভিস কিং। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতায় কোনো সাড়া দেয়নি উত্তর কোরিয়া।









