‘মিশন সাকসেসফুল’: চাঁদের উদ্দেশ্যে পৃথিবী ছাড়লো ভারতের চন্দ্রযান-৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রধান ‘স্পেস পাওয়ার’ হিসেবে নিজের অবস্থানকে আরও একধাপ সামনে নিয়ে গেলো ভারত। দেশটির মহাকাশ সংস্থা শুক্রবার উৎক্ষেপণ করেছে চন্দ্রযান-৩ মহাকাশযান। এই মহাকাশযান চাঁদের দক্ষিণ মেরুর উদ্দেশ্যে এখন পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৩শে আগস্ট চাঁদে পৌঁছাবে এই যান। এই মিশন সফল হলে ভারত ও গোটা মানবজাতির জন্য তা হবে অত্যন্ত গৌরবের।
আল-জাজিরার খবরে জানানো হয়, ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের একটি মহাকাশ কেন্দ্র থেকে চন্দ্রযান-৩ উৎক্ষেপণ করা হয়। স্থানীয় সময় দুপুর ২ টা ৩৫ মিনিটে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এই রকেট। এরইমধ্যে পৃথিবীর কক্ষপথ পাড়ি দিয়েছে রকেটটি। যে রকেটে করে চন্দ্রযান-৩ পাঠানো হয়েছে তা একটি এলভিএম৩-এম৪ রকেট। চার বছর আগে চন্দ্রযান-২ পাঠিয়েছিল ভারত। কিন্তু একেবারে শেষমুহূর্তে চন্দ্রযান ২-এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তবে সেই স্বপ্নভঙ্গ ভারতকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। এখন দেশটি চন্দ্রযান ৩-এর হাত ধরে ফের সেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মহাকাশ সংস্থা ইসরোর পরিকল্পনা মতো নির্দিষ্ট কক্ষপথে প্রবেশ করে চন্দ্রযান ৩। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া একেবারে পরিকল্পনা মতো আগাচ্ছে। ইসরো এরইমধ্যে ঘোষণা করেছে, এই মিশন ‘সাকসেসফুল’। এই চন্দ্রযান মহাকাশযানে অরবিটার, ল্যান্ডার এবং রোভার আছে। ভারতের এই রোভার চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে ঘুরে বেড়িয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে।
চন্দ্রযান ২-এর ব্যর্থতার হাত ধরেই চন্দ্রযান ৩-এর সাফল্যের আশা করছে ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা ইসরো (ইন্ডিয়ান স্পেস অ্যান্ড রিসার্চ অর্গানাইজেশন)। চার বছর আগের দ্বিতীয় চন্দ্রযান মিশনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চন্দ্রযান ৩-এ একাধিক পরিবর্তন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইসরোর চেয়ারম্যন এস সোমনাথ জানিয়েছেন, চন্দ্রযান ২-এ কী ত্রুটি হয়েছিল, তা খতিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। সেই ত্রুটির ভিত্তিতে চন্দ্রযান-৩ নিয়ে এগিয়েছে ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা।
ভারতের এমন গর্বের সময় ফ্রান্স সফরে আছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকেই চন্দ্রযান-৩ মিশন নিয়ে টুইট করেছেন তিনি। এতে মোদি বলেন, ভারতের মহাকাশ ইতিহাসে ১৪ই জুলাই দিনটা স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করা থাকবে। আমাদের তৃতীয় চন্দ্রাভিয়ান চন্দ্রযান-৩ যাত্রা শুরু করবে। দেশের আশা এবং স্বপ্ন নিয়ে যাবে এই দুর্দান্ত মিশন।
ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবতরণ করবে চন্দ্রযান ৩-এর ল্যান্ডার এবং রোভার। ৭০ ডিগ্রি দ্রাঘিমায় অবতরণ করার কথা আছে। যে এলাকা চাঁদের দক্ষিণ মেরু থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখনও পর্যন্ত যে তিনটি দেশ চাঁদে পা রেখেছে, তারা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করতে পারেনি। চাঁদের নিরক্ষীয় অঞ্চলের কাছে অবতরণ করেছিল। দক্ষিণ মেরুর সবথেকে কাছে অবতরণ করেছিল নাসার সার্ভেয়ার-৭। ১৯৬৮ সালে সেদিন ৪০ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশের কাছে অবতরণ করেছিল।
পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব হল প্রায় ৩৮৪,৪০০ কিলোমিটার। পৃথিবী থেকে চাঁদে পৌঁছাতে ৪২ দিন মতো লাগবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। চন্দ্রযান-২ যাত্রা শুরু করেছিল ২০১৯ সালের ২২ জুলাই। চাঁদের নামার কথা ছিল ২০১৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা ইসরোর প্রধান এস সোমনাথ জানিয়েছেন, উৎক্ষেপণের প্রায় এক মাস পরে চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করবে চন্দ্রযান-৩। সবকিছু ঠিকঠাক চললে আগামী ২৩ অগস্ট চাঁদের মাটিতে পা দেবে ল্যান্ডার এবং রোভার।
ল্যান্ডারের মধ্যে রোভার থাকবে। যা চাঁদের মাটিতে ঘুরে বেড়াবে। ১৪ দিন সেটি সক্রিয় থাকবে। অর্থাৎ ১৪ দিন পর এর ব্যাটারি ফুরিয়ে যাবে। এই রোভারের ওজন ২৬ কিলোগ্রাম। চাঁদের মাটিতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে রোভার। চাঁদের মাটির বিভিন্ন উপাদান এবং খনিজ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে। রোভারে সোলার প্যানেল, ক্যামেরার মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) এবং চীন চাঁদ জয় করেছে। এবার ভারতের পালা। তবে ভারত মহাকাশযান পাঠাচ্ছে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে। এখানে এর আগে কোনো দেশ অভিযান চালায়নি। যদি চন্দ্রযান-৩ সফল হয়, তাহলে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নিজের ছাপ ফেলবে ভারত।










