পেলোসির তাইওয়ান সফর ঘিরে উত্তেজনা, দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ঘোর চীনবিরোধী মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের ঘিরে উত্তেজনা চলছিল বিশ্বজুড়ে। অবশেষে মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাতে দেশটির রাজধানী তাইপেতে পৌছান যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তি। বেইজিংয়ের ঘোরতর আপত্তির মুখে ১৯৯৭ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই সফর ঘিরে দু’দেশের মধ্যে তুঙ্গে উত্তেজনা।
তার সফর ঘিরে চীন-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। এ ইস্যুতে দু’দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা বাড়ছে। তাইওয়ান প্রণালিতে মহড়া দিয়েছে চীনা যুদ্ধবিমান। আর দক্ষিণ-চীন সাগরে মোতায়েন করা হয়েছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। এমনই পরিস্থিতিতে ভয় আছে, তাইওয়ানে সামরিক হস্তক্ষেপেরও।
এদিকে তাইওয়ান পৌছানোর পর এক টুইট বার্তায় পেলোসি মন্তব্য করছেন, তাইওয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে নিশ্চিত করে। তিনি বলেন, এটি ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে দু’পক্ষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নানা ইতিবাচক পথ সুগম করবে। এদিকে পেলোসির হোটেলের বাইরে চলছে এ সফরের বিরোধীতাকারিদের বিক্ষোভ।
পেলোসির এশিয়া সফর শুরুর পর থেকেই তার তাইওয়ানে আসা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিল চীন। এমনকি সামরিক ব্যবস্থারও হুঁশিয়ারি দেয় দেশটি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, দ্বীপ দেশটিতে পেলোসির সফর চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে চরম হস্তক্ষেপ। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ চীনা জনগণও। এছাড়া তাইওয়ানের আকাশ ও সাগরপথে সামরিক মহড়া বাড়িয়েছে চীন।
চীন জানায়, বহু বছর ধরে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সামরাজ্যবাদী আচরণ সহ্য করে আসছি, যা এখন আর মেনে নেবো না। মাও সেতুং এর নীতি অনুযায়ী প্রয়োজনে সামরিক শক্তি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিহত করতে হবে।
চীনের এমন হুংকারকে উড়িয়ে দিচ্ছে না হোয়াইট হাউজ। তাদের ধারণা, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শঙ্কা রয়েছে। এমন অবস্থায় চীনের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন।










