65502

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আগামীকাল সোমবার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম। দলের এক সম্মেলনে লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। গত ১০ বছরে বার্নহাম হবেন দেশটির সপ্তম প্রধানমন্ত্রী।

বার্নহামের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে সোমবার। প্রথমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজা অ্যান্ডি বার্নহামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। পরে তিনি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে গিয়ে জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দিতে পারেন। ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে ভাষণের পর বিকেলে তিনি মন্ত্রিসভা গঠন করবেন, যদিও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বৃহত্তর ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র বার্নহাম দলীয় সংসদ সদস্য, ট্রেড ইউনিয়ন এবং তৃণমূলের ব্যাপক সমর্থন পেয়ে কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। লন্ডনের টিইউসি সদর দপ্তরে আয়োজিত দলের বিশেষ সম্মেলনে অ্যান্ডি বার্নহামের নাম ঘোষণা করেন নীতিনির্ধারণী নির্বাহী কমিটির প্রধান শাবানা মাহমুদ, যিনি চ্যান্সেলর পদের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন।

ads

নেতৃত্ব গ্রহণের পর বার্নহাম বলেন, দেশ এখন একটি নতুন রাজনীতির জন্য অপেক্ষা করছে এবং এটিই লেবার পার্টির পরিবর্তনের শেষ সুযোগ। আমি এই দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত। এ সময় দলীয় কোন্দল এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘নতুন ডানপন্থিদের’ পরাজিত করার আহ্বান জানান তিনি। বার্নহাম বলেন, বিগত ঐতিহাসিক পরাজয় থেকে এই বিশাল বিজয়ের ভিত্তি কিয়ার স্টারমারই গড়ে দিয়েছিলেন।

কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা এখনো প্রকাশ না করলেও তিনি স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং সরকারি আবাসন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।

ads

বার্নহাম স্পষ্ট করেন, কনজারভেটিভদের নীতি ধার করা, রিফর্ম পার্টিকে টেক্কা দেওয়া বা গ্রিন পার্টির চেয়ে বেশি পরিবেশবাদী সাজার কোনো ইচ্ছা তার নেই। খবর সিএনএনের।

কে এই বার্নহাম : ১৯৭০ সালে লিভারপুলে জন্ম নেওয়া বার্নহামের শৈশব কেটেছে চেশায়ারে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি প্রথমে সাংবাদিকতা করেন। পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ২০০১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতিসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে সংসদ ছাড়ার পর গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র নির্বাচিত হন এবং টানা প্রায় আট বছর সেই দায়িত্ব পালন করেন। গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উত্তর ইংল্যান্ডের স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকার কারণে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

লেবার পার্টির নেতৃত্বে ওঠার পথও ছিল নাটকীয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় জয় পেলেও নানা নীতিগত ভুল ও অবস্থান পরিবর্তনের কারণে স্টারমার দ্রুত জনপ্রিয়তা হারান। স্থানীয় নির্বাচনে রিফর্ম ইউকের সাফল্যের পর লেবারের অনেক সংসদ সদস্য নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি তোলেন। সম্প্রতি উপনির্বাচনে সংসদে ফিরে রিফর্ম প্রার্থীকে হারানোর পর বার্নহামের নেতৃত্বের পক্ষে দলের ভেতরে জোরালো সমর্থন তৈরি হয়। ফলে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই তিনি লেবার নেতা নির্বাচিত হন।

নীতিগতভাবে বার্নহাম বলেছেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মূল কাঠামো বজায় রাখবেন। আয়কর, ভ্যাট ও ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের প্রধান হার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। তবে তিনি স্থানীয় সরকারকে আরো ক্ষমতা দেওয়ার পক্ষে। আবাসন ও পরিবহন খাতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা বাড়ানোর পাশাপাশি লন্ডনের বাইরে ম্যানচেস্টারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক টিম গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে তার। কল্যাণনীতি, সামাজিক সেবা, অভিবাসন ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সম্পদ কর আরোপের সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে, যদিও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট ঘোষণা দেননি।

ব্যক্তিগত জীবনে অ্যান্ডি বার্নহামের স্ত্রী মেরি-ফ্রান্স ভ্যান হিল, যিনি বিপণন ও কৌশলগত পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ। তাদের তিন সন্তান-জিমি, রোজি ও অ্যানি। তিনি আজীবন এভারটন ফুটবল ক্লাবের সমর্থক এবং খেলাধুলার প্রতি গভীর অনুরাগী।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বার্নহামের নেতৃত্ব নিয়ে এরই মধ্যে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ‘অত্যন্ত উদারপন্থী’ বলে মন্তব্য করেছেন। রাশিয়া বলেছে, তার নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে বলে তারা মনে করে না। অন্যদিকে ফ্রান্স স্থিতিশীল নেতৃত্বের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে এবং ইউক্রেনে যুক্তরাজ্যের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছে।

ad

পাঠকের মতামত