বুড়িচংয়ে কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত ২গ্রামের মানুষ
বুড়িচং প্রতিনিধি: কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়াই কয়েক বছর ধরে চলছে অবৈধ কারখানাটি। কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার সংলগ্ন মোকাম গ্রামে অনুমোদনহীন অবৈধ পরিবেশ বিধ্বংসী কারখানায় টায়ার পোড়া উৎকট দুর্গন্ধে ২গ্রামের মানুষের রাতের ঘুম হারাম! ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর শত বাঁধা নিষেধের পরেও জলবায়ু, পরিবেশ, কৃষি ফসল, গাছপালা, পশুপাখি ও মানবদেহের ব্যপক ক্ষতি করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চলছে পুরোনো টায়ার পুড়িয়ে তেল তৈরির বিষাক্ত ও ক্ষতিকর রাইসা রিসাইক্লীন প্লান্ট প্রাঃ লিমিটেড নামের কারখানাটি।
ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে টায়ার পোড়ানোর কারখানাটি চালাচ্ছেন। দিনে কাজ না করলেও, কোন প্রকার পরিশোধন ব্যবস্থা ছাড়াই সরাসরি টায়ার পোড়ানো হয়। আর এতে করে রাতভর টায়ার পোড়া উৎকট দুর্গন্ধে আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রমযান মাসে সেহেরিও খেতে পারছেন না তারা, কালো ধোয়ার বিভৎস দুর্গন্ধে। এ নিয়ে কারখানা মালিককে দীর্ঘদিন ধরে একাধিকবার বললেও এলাকাবাসীর অভিযোগ আমলে নিচ্ছন না মালিকপক্ষ।
তারা আরো জানায়, প্রতিকার পেতে স্থানীয় এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার সাংবাদিকদের ও এবিষয়ে অবহিত করে সরেজমিনে এনে দেখালেও অদৃশ্য কারনে জনদুর্ভোগের এ সংবাদটি প্রকাশ করা হয় না। কারখানায় পুরোনো টায়ার বর্জ্য পোড়া দুর্গন্ধ ও দুষিত ধোয়ার অসুস্থ হয়ে পরছে আশেপাশের গ্রামের বয়স্ক নারী পুরুষ ও শিশুরা।
স্থানীয়দের কয়েকজন প্রতিবেদককে জানান, নিরুপায় হয় এখন এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ ও যাথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আগামীকাল বুধবার বিকেলে নিমসার বাজার এলাকায় মানববন্ধন করবেন বলে জানান।
এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে কারখানার গেইটে গেলে, দায়িত্বরত গেটকিপার ও কর্মচারীরা জানায় সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কারখানা মালিকের। মালিকের ফোন নাম্বার এবং যোগাযোগের উপায় জানতে চাইলে, তারা এসব বিষয়ে কিছু জানেন না বলে প্রতিবেদকে জানান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কারখানাটি সুমন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি গত কয়েক বছর ধরে পরিচালনা করছেন। কারখানাটিতে আগে দিনে কাজ করা হতো, তবে এলাকাবাসীর অভিযোগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাঁধার মুখে দিনে বন্ধ থাকলেও এখন রাতে পোড়ানো হচ্ছে পুরোনো টায়ার।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হালিমা খাতুন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কে অবহিত করা হচ্ছে। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শওকত আরা কলি বলেন, এই নামে একটি কারখানা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রাপ্তির জন্য অবেদন জমা করেছে। তবে এখনো অনুমোদন দেয়া হয়নি। জলবায়ূ, পরিবেশ ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোন কারখানার অনুমোদন দেয় না পরিবেশ অধিদপ্তর। এলাকাবাসী লিখিত ভাবে অভিযোগ করলে অবশ্যই নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।











