কবর খুড়তে গেলে সওয়াব হয়, আল্লাহ তা’আলা পুরস্কার দেন
নিজস্ব প্রতিবেদক: দাফন। যা নিয়ে কোনো রাজনীতি নেই। কবর খুড়তে হবে, দেরি হলেই লাশ পচে গন্ধ বের হবে। কিন্তু চেনার দরকার নেই এটা বি,এন,পি, আওয়ামীলীগ নাকি জামাতের লোকের লাশ!! শুধু দরকার তাড়াতাড়ি কবর দেয়ার। ঠিক সেই সময় সবাই যাকে খুঁজে বের করতো তার নামই স্রদ্ধেয় সৈয়দ এসতাক হোসেন। লাশকাটা ঘড়, নিজ বাসা কিংবা হাসপাতাল থেকে বের করার আগেই এসতাক ভাই খবর পেয়ে যেতেন। নিজের রিক্সা ভাড়া দিয়ে সাথী দের নিয়ে কখনো টিক্কাচর কখনো বা বিষ্ণুপুর কাজিরপুকুরপার।কি রাত, কি দিন। এসতাক ভাই হাজির। লাশ দাফন হলে সবাই চলে যায়৷ এসতাক ভাই দলবল নিয়ে আস্তে ধীরে বাসায় ফিরেন। বয়স এখন ৭০ এর ঘড়ে। প্রশ্ন ছিলো কবে কিভাবে এ কাজে আশা? কেনই বা আসলেন?
এলোমেলো উত্তর।
ফ্ল্যশ ব্যাক:১৯৬৪। এসতাক ভাইয়ের বাবা সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন প্রকাশ চুন্নু মিয়া। মনের আনন্দ আর পরকালের আশায় কবর খুড়তেন। সেদিন তার ৮বছরের শিশু সন্তান এসতাক কবরের পার যেতে বায়না ধরলেন বাবা চুন্নু মিয়া সেদিন শিশু এসতাক কে নিয়ে গেলেন কবর খুড়তে সেই থেকে শুরু। সেই থেকে এসতাক ভাই জেনেছেন কবর খুড়তে গেলে সওয়াব হয় আর আল্লাহতালা পুরস্কার দেন। এই কথার উপর আস্থা নিয়ে এসতাক ভাই আর থামেননি। প্রায় দুই সহস্রাধিক কবর খুড়তে পেরেছেন এখন পর্যন্ত। প্রশ্ন ছিল ভয় নিয়ে এক বাক্যে বলেন না। ভয় পাইনি। ৭০এর দশকে করস্থান ছিল আলো বিহিন ঘুটঘুটে অন্ধকার। কখনো কখনো গভীর রাত অবদি কবর করে লাশ দাফন করতেন কিন্তু কোনোদিন একটি টাকা কারো কাছ থেকে নেননি। কেউ যদি অপারগ হত বরং তাদের কে নিজ থেকে কাফনের কাপড় কিনে দেন এসতাক ভাই। অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির কবর এসতাক ভাইয়ের হাতে করা। গর্ব করে বলছিলেন তাদের নাম। যেমন: মুক্তিযুদ্ধে শহিদান কিছু লাশও তিনি নিজ দায়িত্ববোধ থেকে ঝুকি নিয়ে দাফন করেন। তাছাড়া কুমিল্লার বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ অনেকের নাম তালিকায় রয়েছে। অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপনকারী এসতাক ভাই ব্যক্তিগত জীবনও খুবই সাধারন। দা, কেচি, বটনি শান দেন কিন্তু মানসিকতা অনেক বড় পোষন করেন। এসতাক ভাইয়ের বাবার মৃত্যুর পর এসতাক ভাই ২০২০সাল অবদি অনেক সাগরেদ বানিয়েছেন যারা এসতাক ভাইয়ের অনুসারী।তাদের মাঝে অনেকে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন৷ ওদের কবরও এসতাক ভাইয়ের নিখুঁত হাতেই হয়েছে। প্রশ্ন ছিল কষ্ট পাননি? উত্তরে হাসি দিয়ে বলেন পুরস্কার পাবেন তো।তাদের মাঝে ফারুক ভাই একজন।জীবিত আছেন নাজিম, কুদ্দুস, জসিম, খোকন, বাবুল সহ নাম মনে পরেনা এমন অনেকে আছেন। বর্তমানে এসতাক ভাই বয়সের ভারে নুজ্জ।কিন্তু হাল ছাড়েন নি। এইত ৪দিন আগেও কবরে নেমেছেন।এখন আর একা কবর থেকে ওঠতে পারেন না অন্যের সাহায্য নিতে হয়, তাতে কি। যত কষ্ট তত বড় পুরস্কার অপেক্ষা করছে পরকালে। ব্যক্তিগতজীবনে ৪মেয়ের বাবা সুখী এসতাক ভাই মেয়েদের খুব ভালোবাসেন। মেয়েরাও বাবা পাগল। কথা বলার একফাকে বললেন আমার আব্বার কবরটিও ওনারি হাতে খুড়া। এই লিখা পড়তে বসে হয়ত আরো অনেকের বাবা, মা, ভাইবোন, নানা, নানি সহ পরিবারের অনেকের সাথে এসতাক ভাইয়ের জড়িয়ে থাকা স্মৃতি গুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠবে। এসতাক ভাইরা যুগে যুগে বেচে থাকুক, বেচে থাকুক মানবতা।










