61109

আফ্রিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে জাতিসংঘ প্রধানের সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে আফ্রিকার অবদান নগণ্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতির শিকার হবে এই মহাদেশই। শনিবার (২২ নভেম্বর) দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জি-২০ নেতাদের সম্মেলনে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘বিশ্ব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার লক্ষ্যে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সাময়িকভাবে এ সীমা অতিক্রম করাটা অনিবার্য হয়ে উঠেছে। এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত এ অতিরিক্ত উষ্ণায়নকে যতটা সম্ভব কম, স্বল্পস্থায়ী ও নিরাপদ রাখা।’

ads

গুতেরেস সতর্ক করেন যে জলবায়ু সংকটের পরিণতি হবে ভয়াবহ। এর ফলে তাপপ্রবাহ, দাবানল, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও ক্ষুধার ঝুঁকি আরও বাড়বে। তিনি বলেন, মানুষের জন্য একটি সহনশীল ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে জি-২০ দেশগুলোর নেতৃত্ব এবং সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘জলবায়ু বিশৃঙ্খলা’ এড়াতে জলবায়ু ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে অভিযোজনের ঘাটতিগুলো পূরণের ওপর তিনি জোর দেন।

এই প্রসঙ্গে মহাসচিব জানান, চলতি বছর থেকেই অভিযোজন তহবিল দ্বিগুণ করা এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর সহায়তায় ২০৩০ সালের মধ্যে তা তিনগুণ করার ব্যাপারে দেশগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। তিনি কপ-২৯ (বাকু) সম্মেলনের অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রা রক্ষা, ক্ষয়ক্ষতি ও ক্ষতিপূরণ তহবিল শক্তিশালী করা, ২০২৭ সালের মধ্যে বৈশ্বিক আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সহনশীল খাদ্যব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং এ দশকেই জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তিতে দ্রুত রূপান্তরের আহ্বান জানান।

ads

তিনি জানান, গত বছর বিশ্বে নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৯০ শতাংশই এসেছে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। প্রায় সব দেশেই নতুন বিদ্যুতের সবচেয়ে সস্তা উৎস এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এর সুবিধা পেতে হলে অর্থায়ন, প্রযুক্তি, শক্তিশালী গ্রিড, সংরক্ষণ সুবিধা ও দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা প্রয়োজন।

গুতেরেস বলেন, ‘জলবায়ু অভিযোজন ও রূপান্তরের এ বিশাল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন বৃহৎ বিনিয়োগ, ঋণসুবিধা, সহনশীল অর্থায়নে সহজলভ্যতা এবং বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আজকের বৈশ্বিক অর্থনীতির বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব দেওয়া যায়।’

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকার সভাপতিত্বে ২২-২৩ নভেম্বর নাসরেক এক্সপো সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনটি আফ্রিকার জন্য একটি ঐতিহাসিক আয়োজন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মেলনটি বর্জন করলেও, এর ঘোষণাপত্রে জলবায়ু সংকটের গুরুত্ব এবং দরিদ্র দেশগুলোর ঋণের বোঝা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ad

পাঠকের মতামত