55819

উত্তর কোরীয় সেনাদের ছাড়তে চান জেলেনস্কি, তবে কঠিন শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনে বন্দি উত্তর কোরিয়ার দুই সেনা সদস্যকে বিনিময়ের প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কাছে তাদের দুই সেনাকে হস্তান্তর করতে চান; যদি তিনি এর বিনিময়ে রাশিয়ার হাতে বন্দি ইউক্রেনীয় সেনাদের মুক্তির ব্যবস্থা করতে পারেন।

স্থানীয় সময় রোববার (১২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এসব কথা লেখেন জেলেনস্কি। খবর আল জাজিরার।

ads

এর আগে শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করা উত্তর কোরিয়ার আহত দুই সেনাকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। জেলেনস্কি বলেন, এ দুজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ও তারা এখন কিয়েভে রয়েছেন।

তাদেরকে আটকের কয়েক ঘণ্টা পরই সেনা বিনিয়ের এ প্রস্তাব দিলেন জেলেনস্কি। তিনি এক্স পোস্টে লেখেন, তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কাছে তাদের দুই সেনাকে হস্তান্তর করতে চান; যদি তিনি এর বিনিময়ে রাশিয়ার হাতে বন্দি ইউক্রেনীয় সেনাদের মুক্তির ব্যবস্থা করতে পারেন।

ads

ওই পোস্টে জেলেনস্কি আরও লেখেন, আমরা শিগগিরই আরও সেনা বন্দি করতে সক্ষম হবো, এটি শুধু সময়ের ব্যাপার । যেসব সেনারা উত্তর কোরিয়ায় ফিরে যেতে চান না, তাদের জন্য বিকল্প পথও রয়েছে। তাদেরকে এই যুদ্ধের আসল রহস্য বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হবে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার সেনাদের বন্দি করার জন্য প্যারাট্রুপারস ও স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এটি সহজ কাজ ছিল না।’ রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া সাধারণত আহত উত্তর কোরীয় সেনাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়, যাতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ না পাওয়া যায়।

ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, গত ৯ জানুয়ারি উত্তর কোরীয় সেনাদের বন্দি করা হয়। এর পরপরই তাদেরকে জেনেভা কনভেনশনের (যুদ্ধে বন্দি সেনাদের মানবিক আচরণের চুক্তি) নির্ধারিত সব প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে তাদেরকে কিয়েভে নিয়ে যাওয়া হয়।

সংস্থাটি আরও বলেছে, বন্দিদের এমন পরিবেশে রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করে।

এসবিইউ দবি করেছে, আটকরা ইংরেজি, রুশ বা ইউক্রেনীয় ভাষায় কথা বলতে পারেন না। এজন্য তাদেরকে কোরীয় ভাষায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ব্যাপারে দক্ষিণ কোরীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএস সদস্যরা তাদেরকে সহযোগিতা করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রাম ও এক্সে পোস্টে জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদের দায়িত্ব নিয়েছে। আটক সেনাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য সাংবাদিকদের সুযোগ দিতে সংস্থাটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের জানা দরকার আসলে কী ঘটছে।

জেলেনস্কি ওই পোস্টের সঙ্গে চারটি ছবি যুক্ত করেছেন। এর মধ্যে দুটি ছবিতে আহত ব্যক্তিদের দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে একটি লাল রুশ সামরিক কার্ড দেখানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, পিয়ংইয়ং ও মস্কোর সামরিক সহযোগিতা চুক্তির আওতায় গত নভেম্বরে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সাহায্য করতে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করে উত্তর কোরিয়া- এমন দাবি করে ইউক্রেন। ওইসব সেনাদের রুশ নাম ও জন্মস্থানসহ ভুয়া সামরিক কাগজপত্র দেওয়ার অভিযোগও তোলে কিয়েভ।

ad

পাঠকের মতামত