ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শি জিনপিংয়ের ফোনালাপ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শুক্রবার বিকেলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সাথে ফোনালাপ করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্টারমারকে অভিনন্দন জানান তিনি।
প্রেসিডেন্ট শি বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল এবং চীন ও ব্রিটেন উভয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং বিশ্বের প্রধান দুটি অর্থনৈতিক শক্তি। তাই দু’দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদী এবং কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা, অংশীদারিত্বের অবস্থান বজায় রাখা, সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদার করা এবং চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে একটি স্থিতিশীল ও পারস্পরিক উপকারী সম্পর্ক অর্জন করে উভয় দেশ ও বিশ্বকে উপকৃত করা উচিত।
প্রেসিডেন্ট শি আরও বলেন, চীন একটি শক্তিশালী দেশ নির্মাণ এবং জাতীয় পুনরুজ্জীবনে চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকীকরণের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমরা আশা করি যে, ব্রিটিশ পক্ষ চীনকে বস্তুনিষ্ঠ ও যুক্তিযুক্তভাবে দেখবে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ব্যাপকভাবে সংস্কারকে আরও গভীর করার জন্য এবং চীনা-শৈলীর আধুনিকীকরণকে উন্নীত করার জন্য কৌশলগত ব্যবস্থা করেছে। চীন নতুন মানের উৎপাদন শক্তির বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে এবং নতুন শিল্পায়নকে উন্নীত করবে, যা ব্রিটেনসহ বিশ্বের দেশগুলোর জন্য আরও নতুন সুযোগ প্রদান করবে। চীন পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সমান সংলাপ চলাতে, পারস্পরিক বোঝাপড়া সম্প্রসারণ করতে, উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় জোরদার করতে, অর্থায়ন, সবুজ অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে, এবং সর্বোপরি জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গভীর করতে ইচ্ছুক।
স্টারমার, প্যারিস অলিম্পিকে চীনের চমৎকার ফলাফলের জন্য চীনা ক্রীড়া প্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ব্রিটেন ও চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা উভয়পক্ষের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর্থ বাণিজ্য, অর্থ, শিক্ষা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, ওষুধ এবং স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের সহযোগিতা জোরদার করা, নিজ নিজ উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং যৌথভাবে জলবায়ুর পরিবর্তনসহ বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে সহায়ক হবে। ব্রিটেন আশা করে, চীনের সাথে সকল স্তরে এবং সকল ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সংলাপ জোরদার করবে, ইতিবাচক ফলাফল অর্জনের জন্য দুই দেশের মধ্যে ব্যবহারিক সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক আদান-প্রদানকে উন্নীত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদী, পারস্পরিক শ্রদ্ধার চেতনা পালন করে স্থিতিশীল ও কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন করবে। চীন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে চীনের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতে এবং বিশ্ব নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে ইচ্ছুক। এক-চীন নীতিতে ব্রিটেনের দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান পরিবর্তন হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শি আরও বলেন, চীন ব্রিটিশ পক্ষের যোগাযোগ ও সংলাপ জোরদার করার ইচ্ছাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং ব্রিটিশ পক্ষের সাথে সর্বস্তরে আদান-প্রদান বজায় রাখতে, চীন-ব্রিটিশ সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের প্রচার করতে এবং বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে ইচ্ছুক।











