এরদোয়ানের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা পুতিনের
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী কথা বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রবিবার ফোনে কথা হয় দুই নেতার। এ সময় ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, মানবিক করিডোর খুলে দেওয়া এবং একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পুতিনের প্রতি আহ্বান জানান এরদোয়ান। তুর্কি প্রেসিডেন্টের দফতরের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
ফোনালাপ শেষে এক বিবৃতিতে তুর্কি প্রেসিডেন্টের দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এরদোয়ান পুতিনকে বলেছেন, বিদ্যমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ভূমিকা রাখতে আঙ্কারা প্রস্তুত রয়েছে।
এরদোয়ান বলেন, ‘অবিলম্বে একটি যুদ্ধবিরতি এই অঞ্চলে শুধু মানবিক উদ্বেগই কমিয়ে দেবে না বরং একটি রাজনৈতিক সমাধানেরও সুযোগ করে দেবে। আসুন একযোগে শান্তির পথ প্রশস্ত করি।’
রুশ প্রেসিডেন্টের দফতর ক্রেমলিন জানিয়েছে, পুতিন এরদোয়ানকে বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হচ্ছে। আর পশ্চিমারা মস্কোর নিরাপত্তা দাবি মেনে নিলেই কেবল এ অভিযান থেকে সরে আসবে মস্কো।
তুরস্ক বলছে, যুদ্ধ অব্যাহত রেখে ইউক্রেন ও রাশিয়ার আলোচনার ফলাফল আশা করা হাস্যকর।
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর একদিন আগে গত ২৩ জানুয়ারি পুতিনের সঙ্গে কথা বলেন এরদোয়ান। যুদ্ধ শুরুর আগে ন্যাটোভুক্ত তৃতীয় কোনও দেশের নেতা হিসেবে পুতিনের সঙ্গে কথা হয় তার। এর আগে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
ইউক্রেন ও রাশিয়া দুই দেশেরই মিত্র হিসেবে পরিচিত ন্যাটো জোটের সদস্য তুরস্ক। কৃষ্ণ সাগরে উভয় দেশের সঙ্গেই তুরস্কের পানিসীমা রয়েছে। আঙ্কারা নিজে রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনেছে। অন্যদিকে তুরস্কের কাছ থেকে কেনা বায়রাকতার টিবিটু ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করছে ইউক্রেন।
চলমান যুদ্ধে খোলাখুলি ইউক্রেনের পক্ষ নিয়েছে আঙ্কারা। সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে কৃষ্ণ সাগরের সংযোগ স্থাপনকারী দুই তুর্কি প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করেছে এরদোয়ান প্রশাসন। এর অর্থ হলো, তুরস্ক তার পানিসীমা ব্যবহার করে রুশ যুদ্ধজাহাজকে কৃষ্ণ সাগরে প্রবেশের অনুমতি দেবে না। চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেন জানিয়েছে, দেশটিকে আরও ড্রোন সরবরাহ করবে তুরস্ক। তবে কিয়েভের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন দিলেও এখনও পর্যন্ত মস্কোর বিরুদ্ধে কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি আঙ্কারা। এরদোয়ান বলেছেন, তার দেশের পক্ষে রাশিয়া বা ইউক্রেন কাউকেই ত্যাগ করা সম্ভব নয়।











