13700

কুমিল্লায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ৪

ডেস্ক নিউজ: কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি প্রাইভেটকারের ভেতরে তল্লাশি করে ২টি ব্যাগে থাকা ১ কোটি ৬০ লাখ টাকাসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের একটি টহলদল উপজেলার বলদাখাল থেকে চাঁদপুর সড়কের পদুয়া ইউনিয়নের কয়রাপুর লোহার ব্রিজ নামক স্থান থেকে গত বুধবার গভীর রাতে তাদের গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার বিকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীরায়েরচর সড়কের কয়রাপুর লোহার ব্রিজ নামক স্থানে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এএসআই মো. মোশাররফ হোসেন নেতৃত্বে একদল পুলিশ রাস্তায় টহল দিচ্ছিলেন। এসময় একটি প্রাইভেটকারের (ঢাকা মেট্রো-গ ১৯-১০৮১) গতিবিধি সন্দেহজনক দেখে প্রাইভেটকারটি আটক করে তারা। পরে পুলিশ প্রাইভেটকারের আরোহীদের নামিয়ে এতে তল্লাশি চালায় এবং ২টি ব্যাগ দেখতে পায়। এসময় ব্যাগে কি রয়েছে পুলিশ জানতে চাইলে তারা বলে ব্যাগে স্বর্ণ বিক্রির টাকা রয়েছে।

ads

প্রাইভেটকারটি তল্লাশি করলে ২টি ব্যাগের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা আছে বলে আটককৃতরা পুলিশকে জানায়। এ সময় স্বর্ণ বিক্রির কোন রশিদ বা কাগজপত্র দেখাতে না পারায় এএসআই মো. মোশাররফ হোসেন বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানার ওসিকে অবগত করেন। পরে ওসির নির্দেশে টহল দল প্রাইভেটকারসহ তাদের থানায় নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় দুই সাংবাদিকের উপস্থিতিতে ওই দুটি ব্যাগ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা উদ্ধার করার বিষয়টি ভিডিও করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোপাটি গ্রামের কানুলাল কর্মকারের ছেলে তমাল কর্মকার (২৫), একই গ্রামের মৃত চন্দন কর্মকারের ছেলে অন্তু কর্মকার, চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম বিঘনদী গ্রামের মৃত শুকুর বেপারির ছেলে ও প্রাইভেটকারের চালক সেলিম বেপারি এবং চাঁদপুর সদর উপজেলার গোল্ডেন টাওয়ার মহিলা কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা সম্ভুনাথ কর্মকারের ছেলে সুকদেব কর্মকার।

ads

সন্ধ্যায় দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে- উদ্ধার হওয়া ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ঢাকায় স্বর্ণ বিক্রি করা টাকা। এসব টাকা নিয়ে তারা চাঁদপুরে যাচ্ছিল। তবে তারা এসব টাকার কোনো রশিদ কিংবা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তাই টাকাগুলো কার, কোথায় থেকে এসেছে, মানিলন্ডারিং-এর সাথে জড়িত আছে কিনা- এসব ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে বিষয়টি মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ বলে প্রতীয়মান হওয়ায় সিআইডিকে অবহিত করা হয়েছে। আইনের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদেরকে ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনা সিআইডি তদন্ত করছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নথি সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।’

ad

পাঠকের মতামত