অভিবাসী সংকটে স্পেনের সঙ্গে ‘শেনজেন’ অবাধ চলাচল ব্যবস্থা স্থগিত করল ইতালি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে দেশটির সঙ্গে সাময়িকভাবে শেনজেন চুক্তির অবাধ চলাচল ব্যবস্থা স্থগিত করেছে ইতালি। একই সঙ্গে স্পেনের সঙ্গে নিজেদের সমুদ্র ও আকাশ সীমান্ত বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং উপপ্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ও মাত্তেও সালভিনি এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। এর পর শুক্রবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসির সভাপতিত্বে বৈঠকের পর সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়।
ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘স্পেনের সঙ্গে শেনজেন সাময়িক স্থগিত করা আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষা এবং ইউরোপীয় সীমান্ত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত। চুক্তিতে এ ধরনের পদক্ষেপের সুযোগ রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি অনিবার্য হয়ে উঠেছে।’
তিনি আরও বলেন, সেউতার অভিবাসন সংকট দেখিয়েছে যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সদস্য দেশগুলোর যৌথ দায়িত্ব। অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন প্রবাহ ঠেকাতে দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সেউতার পরিস্থিতির পর ফ্রান্সও স্পেনের সঙ্গে স্থল সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেনকে সহায়তা করা হবে।
ইতালির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘সংহতি ও সহানুভূতি ঐচ্ছিক হতে পারে, কিন্তু ইউরোপীয় চুক্তি ও বাস্তবতাকে সম্মান করা ঐচ্ছিক নয়।’
সানচেজ ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইতালিতে স্পেনের চেয়ে বেশি অনিয়মিত অভিবাসী প্রবেশ করেছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেসও ইতালির পদক্ষেপের নিন্দা করেছেন। তিনি ইতালির রাষ্ট্রদূতকে মাদ্রিদে তলব করে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, সেউতার অভিবাসন সংকটের সঙ্গে স্পেন সরকারের অভিবাসীদের নিয়মিতকরণ নীতির সম্পর্ক নেই। বরং সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশকারী অভিবাসীদের বিষয়ে সাম্প্রতিক আদালতের রায়ের ব্যাখ্যাকে মানব পাচারকারী চক্র ও অপরাধী সংগঠনগুলো কাজে লাগিয়েছে।
শুক্রবারের মধ্যে ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, চেক প্রজাতন্ত্র ও সুইডেনসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ইতালির অবস্থানের কাছাকাছি অবস্থান নেয়।
ফিনল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারি রানতানেন বলেন, ‘স্পেন শেনজেন এলাকার বহিঃসীমান্ত রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এটি আর চলতে পারে না।’
তবে ইউরোপীয় কমিশনের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনুস ব্রুনার জানান, সেউতা ও মেলিয়ার জন্য শেনজেন সীমান্ত বিধিতে বিশেষ নিয়ম রয়েছে এবং সেউতা থেকে বের হওয়া ব্যক্তিদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এখনো কার্যকর আছে।
আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে ইতালিতে শেনজেন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি ডানপন্থী দল এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্সের ন্যাশনাল র্যালি, জার্মানির অলটারনেটিভ ফর জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের রিফর্ম ইউকে।











