দেশ পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি; জার্মানিকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান চ্যান্সেলর মের্ৎসের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে জার্মানিকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে বলে সতর্ক করেছেন চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। অন্যথায় ইউরোপের এই শীর্ষ অর্থনীতির দেশ পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আজ (মঙ্গলবার, ১২ মে) ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীদের এক সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ক্ষমতায় আসার এক বছর পূর্ণ হলেও চ্যান্সেলর মের্ৎসের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে। ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং স্বাস্থ্য ও পেনশন খাতের ক্রমবর্ধমান খরচ সামলাতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এই সংস্কারের গতি ও পরিধি নিয়ে খোদ সরকারের ভেতরেই বিবাদ চলছে।
শিল্প, সরকারি ও সেবা খাতের কর্মীদের এই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জার্মানির রাজনৈতিক অস্থিরতারই বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে দেশটির মূল ধারার দলগুলো জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। বিপরীতে দ্রুত উত্থান ঘটছে কট্টর ডানপন্থি দল ‘অলটারনেটিভ ফর জার্মানি’র (এএফডি)।
এদিকে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে নীতিগত পার্থক্য দূর করতে গত মঙ্গলবার বৈঠকে বসার কথা ছিল মের্ৎসের রক্ষণশীল দলের। জোট সরকারের পতন হতে পারে—এমন গুঞ্জন অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন মের্ৎস ও ভাইস চ্যান্সেলর লার্স ক্লিংবিল।
টানা দুই বছর মন্দার পর গত বছরের শেষ দিকে জার্মানি প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরলেও সে পুনরুদ্ধার এখনো বেশ নড়বড়ে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট এবং গাড়ি নির্মাতাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের ঝুঁকি দেশটিকে চাপের মুখে ফেলেছে। এর বাইরে গাড়ি শিল্পে চীনের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতাও জার্মানির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জার্মান ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনে দেওয়া বক্তব্যে মের্ৎস বলেন, ‘আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ, আমরা দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের সমস্যাগুলো জিইয়ে রেখেছি। দেশ আধুনিক করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’
চ্যান্সেলর আরও বলেন, ‘জার্মানিকে অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াতে হবে। বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। সমস্যাগুলো দিন দিন কেবল বড়ই হচ্ছে। আপনারা এটি জানেন, আমরা সবাই জানি।’
অতিরিক্ত ব্যয় ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ব্যবসার ক্ষতি করছে বলে উল্লেখ করেন মের্ৎস। তিনি বলেন, ‘এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়ছে।’ তবে স্বাস্থ্য ও পেনশন খাতের সংস্কার নিয়ে কথা বলার সময় উপস্থিত জনতা তাকে লক্ষ্য করে শিষ ও দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন। অনেকে এ সময় হাতের বুড়ো আঙুল নিচের দিকে নামিয়ে সংস্কার প্রস্তাবের প্রতি অনাস্থা জানান।











