গুলশানে ভোট দিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
নিউজ ডেস্ক: দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর ভোট প্রদান করেন। কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর প্রধান উপদেষ্টা অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ও উচ্ছ্বসিত ছিলেন এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ভোট প্রদান শেষে তিনি দেশের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।
একই কেন্দ্রে আজ সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই দুই ব্যক্তিত্বের একই কেন্দ্রে ভোট প্রদানকে কেন্দ্র করে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই চলবে। এবারের নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটাররা দুই স্তরে তাঁদের রায় প্রদান করছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-৩ আসন ব্যতীত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে আজ একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনি ময়দানে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৮ জন, জামায়াতে ইসলামী ২২৯ জন, জাতীয় পার্টি ১৯৮ জন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩২ জন প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।
ভোটার সংখ্যার বিচারে এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ একটি আয়োজন। মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমানুপাতিক এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচনি কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে মাঠ পর্যায়ে প্রায় ৮ লাখ নির্বাচনি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার পরিবেশ তৈরি করতে দেশজুড়ে বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা যাচাই করতে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রায় ৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি অন্তত ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক সরাসরি ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করছেন। সব মিলিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে দেশ এক নতুন রাজনৈতিক গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে। দিনের শেষে ভোট গণনা শেষে কেন্দ্র থেকেই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে কমিশন নিশ্চিত করেছে।










