63578

ব্রিটেন-চীন সম্পর্কে নতুন দিনের সূচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ আট বছর পর প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চীন সফর শেষ করলেন কিয়ার স্টারমার। তার এই সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘রিসেট’ বা নতুন সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্টারমারের এই সফরে ৫৪টি ব্রিটিশ কোম্পানির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে। বেইজিংয়ের পর প্রতিনিধি দলটি এখন সাংহাইয়ে অবস্থান করছে।

সফরের শুরুতেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘চায়না-ব্রিটেন বিজনেস কাউন্সিল’ এবং জিয়াংসু প্রদেশের সুঝৌ শহরের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক। এর মাধ্যমে একটি ‘ইনোভেশন হাব’ বা উদ্ভাবন কেন্দ্র তৈরি করা হবে, যা ব্রিটিশ স্টার্টআপগুলোকে চীনে ব্যবসা প্রসারে সহায়তা করবে। এছাড়া দুই দেশ শুল্ক হ্রাস এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছে। চীন-ব্রিটেন বিজনেস কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী পিটার বারনেট এই সফরকে একটি ‘বিরাট স্বস্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং দুই দেশের বাণিজ্যে নতুন করে আশাবাদের কথা জানিয়েছেন।
২০১৮ সালের পর এটিই কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর। গত কয়েক বছরে জাতীয় নিরাপত্তা এবং হংকং ইস্যু নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ওয়াশিংটনের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর চীন নীতির বিপরীতে ব্রিটেন কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখবে, তা ছিল স্টারমারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। স্টারমার তার এই সফরে চীনের সাথে একটি ‘প্রাগম্যাটিক’ বা বাস্তবসম্মত সম্পর্ক তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করাÑএই দ্বিমুখী লক্ষ্য নিয়েই তিনি এগিয়েছেন।

ads

শনিবার সাংহাইয়ে একটি বিজনেস ফোরাম ও মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে ব্রিটিশ প্রতিনিধি দলের এই সফর শেষ হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। তবে আগামী দিনে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যকার এই নতুন সম্পর্ক কতটা স্থিতিশীল হয়, তা নির্ভর করবে দুই দেশের কৌশলগত স্বার্থের ওপর। উল্লেখ্য, ব্রিটেন দীর্ঘদিন ধরে চীনকে তাদের ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে বিবেচনা করে আসলেও, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে এখন বেইজিংয়ের সাথে নতুন করে সংলাপ শুরু করেছে স্টারমার প্রশাসন। সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

ads
ad

পাঠকের মতামত