পশ্চিম তীরে রেকর্ড ৩৭ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত: জাতিসংঘ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দখলকৃত পশ্চিম তীরে ২০২৫ সালে ৩৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অবৈধ ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের নজিরবিহীন সহিংসতার মধ্যে এই সংখ্যা সর্বকালের সর্বোচ্চ বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের (ওসিএইচএ) নতুন তথ্য তুলে ধরে এসব কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বাস্তুচ্যুতি ও বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা রেকর্ড মাত্রা স্পর্শ করেছে।’
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ৩৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ডুজারিক জানান, এর বড় একটি কারণ ছিল শরণার্থী শিবিরগুলোতে চালানো বিভিন্ন অভিযান।
ওসিএইচএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলজুড়ে ২০২৫ সালে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর ১ হাজার ৮০০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে। ডুজারিক উল্লেখ করেন, এসব হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র আরও জানান, এটি জাতিসংঘের রেকর্ড করা এক বছরের সর্বোচ্চ পরিসংখ্যান এবং টানা নবম বছরে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেল।
ইসরায়েলি বামপন্থী সংগঠন ‘পিস নাও’-এর তথ্যমতে, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন বসতি ও আউটপোস্টে ৫ লাখেরও বেশি অবৈধ ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী বসবাস করছে। এছাড়া দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে নির্মিত বসতিগুলোতে বাস করছে আরও আড়াই লাখ বসতিস্থাপনকারী।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের হামলা আরও জোরদার হয়েছে।
ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বাহিনী এবং অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা অন্তত ১ হাজার ১০৯ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। একই সময়ে প্রায় ১১ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং আটক করা হয়েছে ২১ হাজার জনকে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এক ঐতিহাসিক রায়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে। একইসঙ্গে আদালত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের সব বসতি খালি করার আহ্বান জানায়।









