63046

চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১৩টিতে সমন্বিত প্রার্থী, সুন্নি ভোট এক বাক্সে আনার চেষ্টা

নিউজ ডেস্ক: সুফি, তরিকত ও খানকাহপন্থিদের ‘তীর্থভূমি’ বলা হয় চট্টগ্রামকে। এই জনপদে অবস্থিত অসংখ্য অলি-আউলিয়া, পীর-মাশায়েখ ও বুজুর্গের মাজার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিষয়টি কাজে লাগাতে চায় সুন্নিপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো। এ জন্য সুন্নিপন্থি তিন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘বৃহত্তর সুন্নি জোট’ এবার চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ছয়-সাতটি আসন নিয়ে বেশ স্বপ্ন দেখছে। জয় পেতে বেছে বেছে এলাকাভিত্তিক ক্লিন ইমেজের কিছু জনপ্রিয় মুখ ও উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে এই জোট। এ তালিকায় মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ও প্রভাবশালী পীর রয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দুই জোটের বিপরীতে সুন্নি মতাদর্শী ভোট এবার এক বাক্সে তুলে চমক দেখাতে চান তাদের নেতারা।

বৃহত্তর সুন্নি জোটভুক্ত দল তিনটি হলো– বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপি (একতারা)। গত ৩০ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সংম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা দেওয়া হয় এই জোটের। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ভেঙেই গঠিত হয়েছিল ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ। বিএসপিপ্রধান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ মাইজভান্ডারী একই মতাদর্শের হলেও পরে তিনি আলাদা দল গঠন করেন। তিনটি দলের মূল ঘাঁটি চট্টগ্রাম। তবে সারাদেশে কমবেশি তাদের সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। এই জোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ৭০টিতে প্রার্থী দিয়েছে। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে প্রার্থী দিয়েছে তারা।

ads

জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনটি সুন্নি রাজনৈতিক দলের বেশির ভাগ জ্যেষ্ঠ নেতা এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। তাদের মধ্যে আছেন– বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এমএ মতিন, মহাসচিব স. উ. ম. আবদুস সামাদ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মহাসচিব জয়নুল আবেদিন জুবাইর ও বিএসপি মহাসচিব শাহ মোহাম্মদ আসলাম হোসাইন। অতীতে তারা প্রার্থী হয়েছেন। এবার কৌশলগত কারণে প্রার্থী না হয়ে তারা অপেক্ষাকৃত তরুণ ও নতুন মুখ বেছে নিয়েছেন। নেতাদের ভাষ্য, নতুন প্রজন্মকে দল ও জোটে টানতেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

চট্টগ্রামের ১৩ প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনই বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের। এ ছাড়া ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের পাঁচজন ও বিএসপির দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন– চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ মাইজভান্ডারী, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) মো. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) মাওলানা রফিক উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইলিয়াস নুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান আজহারী, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) মাওলানা ওয়াহেদ মুরাদ, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) মাওলানা আবু তাহের, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) মাওলানা মো. আবু তাহের, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া)পীরজাদা সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সৈয়দ মুহাম্মদ শাহজাহান, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) মাওলানা মো. সোলায়মান ফারুকী ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে মাওলানা আবদুল মালেক।

ads

এসব আসনের মধ্যে জোটের নেতারা চট্টগ্রাম-৬, চট্টগ্রাম-৭, চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-১২, চট্টগ্রাম-১৩ ও চট্টগ্রাম-১৪ আসন নিয়ে বেশ আশাবাদী। এর বাইরে তারা চট্টগ্রাম-২ আসনকেও সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছেন। এই আসনের প্রার্থী বিএসপিপ্রধান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ মাইজভান্ডারী।
জোট সূত্র জানায়, আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা নিরসন হয়েছে। চট্টগ্রাম-৪ ও চট্টগ্রাম-৫ আসনের দুই প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেবে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএসপিকে ও চট্টগ্রাম-৫ ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আখতারী সমকালকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম সুন্নি মতাদর্শীদের উর্বর একটি ক্ষেত্র। কিন্তু নানা কারণে আমরা নির্বাচনে সেটাকে কাজে লাগাতে পারিনি। তবে এবার তিন সুন্নি দলের জোট হওয়ায় ভোটে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। চট্টগ্রামের আসনগুলোর কয়েকটিতে সুন্নিরা এখন জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে।’
জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন বলেন, ‘সুন্নি মতাদর্শী তথা সুফি ও তরিকাপন্থি দলগুলো নিয়ে বৃহত্তর সুন্নি জোট গঠন করা হয়েছে। বারো আউলিয়ার চট্টগ্রামে সুন্নিপন্থিদের বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে। বিভক্তির কারণে আগে ভোটগুলো ভাগ হয়ে যেত। এবার সুন্নি রাজনৈতিক দলগুলোকে এক ছাতার মধ্যে আনা হয়েছে। ফলে সুন্নি মতাদর্শীদের ভোটও এক বাক্সে আসবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে এমএ মতিন বলেন, ‘চট্টগ্রামে ১৬টি আসনের মধ্যে সম্ভাবনাময় ১৩টিতে আমরা প্রার্থী দিয়েছি। তবে ছয়-সাতটি আসনে বিএনপি-জামায়াতের বিপরীতে আমরা ভালো অবস্থানে রয়েছি। শেষ পর্যন্ত এটা ধরে রাখা গেলে ও সুন্নিদের ভোট এক বাক্সে এলে সুফি-খানকাহপন্থি শান্তির দলগুলোর জোট, বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থীরা জয়লাভ করবেন।’

ad

পাঠকের মতামত