ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মিশরের প্রেসিডেন্টের বৈঠক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ ইয়েমেনে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সোমবার কায়রোতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। মিশরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফয়সাল বিন ফারহান ও আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি
মিশরের প্রেসিডেন্ট পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও অঞ্চলে চলমান সংকট মোকাবিলায় মিশর ও সৌদি আরবের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন। প্রেসিডেন্সিয়াল বিবৃতি অনুযায়ী, বিশেষ করে সুদান, ইয়েমেন, সোমালিয়ার পরিস্থিতি এবং গাজা উপত্যকার বিষয়ে দুই পক্ষই অভিন্ন মত প্রকাশ করেছে। তারা রাষ্ট্রগুলোর ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করে আঞ্চলিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের সমস্যা নিয়ে দেশটির বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনার জন্য সম্মেলন আয়োজনে সৌদি আরবের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট। গত শনিবার রিয়াদ ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সব পক্ষকে দক্ষিণাঞ্চলীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানায়।
সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) প্রধান আইদারুস জুবাইদি দুই বছরের ‘অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়’ ঘোষণা করার একদিন পরই এই আমন্ত্রণ জানানো হয়। ওই ঘোষণার মধ্যে দক্ষিণ ইয়েমেনের দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি ‘গণভোট’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসটিসি বাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ হাদরামৌত ও আল-মাহরা দখল করার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে রবিবার সরকারি বাহিনী এই দুটি অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড জুড়ে থাকা এই অঞ্চল দুটির সঙ্গে সৌদি আরবের সীমান্ত রয়েছে।
গত সপ্তাহে সৌদি আরব অভিযোগ করে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত হাদরামৌত ও মাহরায় সৌদি সীমান্তে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য এসটিসি বাহিনীকে প্ররোচিত করছে। তবে আবুধাবি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বৈঠকে সিসি চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মিশর-সৌদি সুপ্রিম কোঅর্ডিনেশন কাউন্সিলের প্রথম বৈঠকের আয়োজনের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ওই বৈঠকে সিসি এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সভাপতিত্ব করবেন বলে কথা রয়েছে।











