58461

পাঞ্জাবকে হারিয়ে আইপিএলে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু

স্পোর্টস ডেস্ক: ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো অবশেষে। আইপিএলে ২০০৮ থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবারই ফেবারিটের তালিকায় থাকতো বিরাট কোহলির দল রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। কিন্তু প্রতিবারই হতাশ হতে হয়েছে দলটির সমর্থকদের। এমনকি এর আগে তিনবার ফাইনালে উঠেও শিরোপার নাগাল পাননি বিরাট কোহলিরা।

অবশেষে পাঞ্জাব কিংসকে মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে হারিয়ে আইপিএলে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেলেন বিরাট কোহলি এবং তার দল রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

ads

বিরাট কোহলির হাতে কাপ দেখতে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আজ হাজির ছিলেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। ছিলেন বেঙ্গালুরুর সাবেক ক্রিকেটার এবি ডি ভিলিয়ার্স, ক্রিস গেইলের মতো তারকারা। অবশেষে তাদের উপস্থিতি স্বার্থক। চ্যাম্পিয়ন হলো বেঙ্গালুরু।

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৯০ রান করে আরসিবি। জবাবে পাঞ্জাব কিংস ১৮৪ রানেই থেমে যায়। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ২৯ রান দরকার ছিল পাঞ্জাবের, কিন্তু শশাঙ্ক সিংয়ের দারুণ চেষ্টা সত্ত্বেও পারেননি দলকে জেতাতে।

ads

আরসিবির ইনিংসে রজন পাতিদার করেন ২৬ রান। কোহলির ব্যাট থেকে আসে ৪৩ রান। লিয়াম লিভিংস্টোন, মায়াঙ্ক আগারওয়ালরাও ছোট ছোট অবদান রাখেন। শেষদিকে জিতেশ শর্মা ও রোমারিও শেপার্ডের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে স্কোর দাঁড়ায় ১৯০।

পাঞ্জাবের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন আরশদীপ সিং, তিনি ৩টি উইকেট শিকার করেন। কাইল জেমিসনও ৩ উইকেট পেলে রান দেন অনেক।

১৯১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায় পাঞ্জাব। তবে ম্যাচের গতি বদলে দেন আরসিবি স্পিনার ক্রুনাল পান্ডিয়া। নিজের ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি—জস ইংলিশ ও প্রভিশমারান সিংয়ের।

শেষদিকে পাঞ্জাবের জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে রাখেন শশাঙ্ক সিং। ৩০ বলে ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি, যার মধ্যে ছিল ৬টি ছক্কা ও ৩টি চার। তবে শেষের দিকে ভুবেন্বশ্বরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আটকে যায় পাঞ্জাবের রানচাকা।

২০০৯, ২০১১ ও ২০১৬—এই তিনবার ফাইনালে উঠেও ট্রফির স্বাদ পায়নি আরসিবি। এবার চতুর্থবার এসে ভাগ্য বদলাল। দীর্ঘদিন ধরে দলের আইকন হিসেবে থাকা বিরাট কোহলি ম্যাচশেষে আবেগে ভেসে যান। মাঠেই দেখা যায় তাঁর চোখে জল।

১৭ বছর, ২৯৩টি ম্যাচ, অসংখ্য হৃদয়ভাঙা মুহূর্ত পেরিয়ে এবার আরসিবি সত্যিই ‘এবার আরসিবি’ স্লোগান বাস্তব করল। ট্রফি জয়ের সঙ্গে সঙ্গে আইপিএলের ইতিহাসে শুরু হল এক নতুন অধ্যায়।

ad

পাঠকের মতামত