জাপানে ছয় মাসে একা বাড়িতে ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জাপানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ নিজ বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় মারা গেছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, দেশটির পুলিশের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অন্তত ১৩০ জনের খোঁজ পাওয়া গেছে- যাদের মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর ঘর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অন্তত চার হাজার মানুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে মৃত্যুর এক মাস পর।
জাতিসংঘের হিসেবে, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রবীণ জনসংখ্যার দেশ জাপান।
তাদের প্রত্যাশা, নতুন এ প্রতিবেদন জাপানের বিপুলসংখ্যক প্রবীণ মানুষের একাকী জীবনযাপন করে মারা যাওয়ার বিষয়কে লোকচক্ষুর সামনে নিয়ে আসবে।
জাতীয় পুলিশ সংস্থার সংগ্রহ করা জুন মাস পর্যন্ত তথ্যে দেখা গেছে, একাকী জীবনযাপন করা ৩৭ হাজার ২২৭ জনকে তাদের নিজেদের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশ লোকের বয়স ছিলো ৬৫ বছর বা এর বেশি।
ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাড়িতে নিঃসঙ্গ অবস্থায় মারা যাওয়া ওই মানুষদের মধ্যে আনুমানিক ৪০ শতাংশকে তাদের মৃত্যুর এক দিনের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া গেছে।
জাপানের সরকারি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এনএইচকে জানায়, যেসব মৃত মানুষের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি, তাদের শনাক্ত করতে পুলিশের ওই সংস্থা তাদের এ অনুসন্ধানের তথ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি রিসার্চ গত এপ্রিলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানায়, জাপানে একাকী বসবাসকারী প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা আগামী ২৫ বছরের মধ্যে অনেক বাড়বে। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির প্রতি পাঁচটি পরিবারের মধ্যে একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে একাকী জীবন কাটাতে হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে জাপানের বিভিন্ন পরিবারে ১ কোটি ৮ লাখ বয়স্ক মানুষ একা বসবাস করবেন। মোট পরিবারের হিসেবে এটি ২০ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার।
জাপানি তরুণ-তরুণীদের দেরিতে বিয়ে করার প্রবণতা বা অনেকের সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে শেষ সময়ে একাকী কাটাতে হয় বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।











