45750

‘সামনে আরও ভয়ংকর হবে ডেঙ্গু’

নিউজ ডেস্ক: সব জায়গায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার কারণে সামনে আরও বিপর্যয় ঘটতে পারে। ডেঙ্গু রোগী আরও বেশি সংখ্যায় শকে চলে যেতে পারে। তাই সারা বছরব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করতে হবে বলে মত ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। রবিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলা হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত একজন রোগীর জন্য সরকারের গড়ে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ডেঙ্গু চিকিৎসায় ব্যয় করেছে সরকার।’

ads

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের সরকারি হাসপাতালে ৭০ শতাংশ রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। আর বাকি ৩০ শতাংশ রোগী বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিয়েছে। সাধারণত দুই ধরনের ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। অনেকের প্ল্যাটিলেট ও আইসিইউ’র প্রয়োজন হয়। আবার অনেকে শুধু ওষুধেই সুস্থ হয়ে যায়।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠান যার যার অবস্থান থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। আজকের আলোচনায় যেসব পরামর্শগুলো আসলো সেগুলো যদি আমলে নেই, তাহলে এই বৈঠক ফলপ্রসূ হবে। আমাদের ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্টের জন্য সারা বছর কাজ করতে হবে। শুধু সিজনাল কাজ করলে চলবে না। আমাদের জোর দিতে হবে প্রতিরোধের দিকে।’

ads

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, ‘ডেঙ্গুর যে ধরন দেখা দিয়েছে, আগামী বছর আক্রান্তরা আরও বেশি শকে যাবে। ডেঙ্গু রোগী ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইনে কোনও সমস্যা নেই। আগামী বছর অবস্থা আরও খারাপ হবে। কারণ, আমাদের প্রাইমারি, সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি লেভেলে সংক্রমণ হচ্ছে। প্রত্যেকটি সংক্রমণ পরবর্তী সংক্রমণকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করছে। প্ল্যাটিলেট এখানে ইস্যু না, ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট এখানে ইস্যু। সেটা আমরা সারা দেশেই চেষ্টা করছি গাইডলাইন দিয়ে ম্যানেজ করতে।’

অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর আরও বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানে রোগীর মৃত্যু হয়েছে, আমরা সেসব প্রতিষ্ঠান থেকেই ডেথ প্রটোকল নিয়ে এসেছি। আমরা বেশ কয়েকটি রিভিউ করেছি, যেটার ফলাফল শিগগিরই সবার সামনে নিয়ে আসবো।’

জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘সবাই অনেক কাজ করছি, তাও রোগ বাড়ছে, রোগী মারা যাচ্ছে। কোথাও তো একটা ঝামেলা আছে। সেই বিষয়টা নিয়ে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এডিস মশা নিয়ে গবেষণার জায়গায় একটা দুর্বলতা হচ্ছে— আমাদের দেশে মেডিক্যাল এন্টোমলোজিস্ট আসলেই নেই। যারা কাজ করেন তারা হয় প্রাণিবিদ্যা ব্যাকগ্রাউন্ডের, অথবা কৃষি থেকে এসেছেন। আমরা নিপসমের পক্ষ থেকে মেডিক্যাল এন্টোমলোজির ওপর একটি প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৯ সালে ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগ তেমন ছিল না। তারপরে আমরা দেখেছি— কুষ্টিয়া, যশোর, মেহেরপুর, বরিশালের মতো কয়েকটা জেলায় ছিল। এই বছর কোনও জেলা বাদ নেই। আমরা শহরাঞ্চলে এডিস এজিপ্টি নিয়ে কথা বলি, কিন্তু গ্রামাঞ্চলে এডিস এলবোপিকটাস বেশি থাকে, সেটা নিয়ে আলোচনা হয় না। ঢাকার বাইরে যেসব জায়গায় সার্ভে হয়েছে— সবখানেই এলবোপিকটাস বেশি সংখ্যায় পাওয়া গেছে। এর চরিত্র এজিপ্টি থেকে একদমই আলাদা। আমরা প্রচার-প্রচারণা করি এজিপ্টি মাথায় নিয়ে। এলবোপিকটাস কিন্তু কচু গাছের পাতায় জমা পানিতেও হতে পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম সারা বছরজুড়ে চালাতে হবে। এই বছর আমরা গ্রামাঞ্চলে রোগী পেতে শুরু করেছি, আমি আসলে খুব ভীত যে, আগামী বছর এই পরিমাণটা আরও বাড়বে কিনা। বাড়লে আমাদের চিকিৎসা সক্ষমতার ওপর অনেক চাপ পড়বে।’

নিপসমের কীটতত্ত্ববিদরা জানান, মশার তিন ধরনের পরিবর্তন এসেছে। যার ফলে যেসব ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেসব প্রয়োগে কর্মীদের যথেষ্ট প্রশিক্ষিত হতে হবে। ওষুধ যদি শুধু ছিটিয়ে যায় পোকার সান্নিধ্যে না আসে, কোনও কাজে আসবে না। যতই কার্যকর ওষুধ হোক না কেন, ইনসেকটের কন্টাক্টে না আসলে কোনও কাজ হবে না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ.কে.এম শফিকুর রহমান জানান, বাসাবাড়িতে পানির মিটার একটা বড় মাথা ব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানির মিটার একটি বক্সের মধ্যে থাকে, এর মধ্যে পানি জমে। এই জায়গায় আমরা লার্ভা কিন্তু অনেক বাড়িতেই পেয়েছি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা.এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘স্কুলে প্রচারণা বাড়াতে হবে। আমরা স্কুলে প্রচুর আক্রান্ত বাচ্চা পাচ্ছি।’

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘পরস্পর দোষারোপ না করে সমস্যার উত্তরণ করা জরুরি। সমন্বিতভাবে সবার কাজ করতে হবে। কোনও দেশেই দ্রুত উত্তরণ ঘটার মতো পরিস্থিতি হয়নি।’

ad

পাঠকের মতামত