ব্রাহ্মণপাড়ায় আর্টিলারি শেল উদ্ধার, খোলা মাঠে বিস্ফোরণ
ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় একদিনে দুটি অবিস্ফোরিত আর্টিলারি শেল (বুম্ব) উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার উপজলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড (সাহেবাবাদ) গ্রামের বন্যা পুকুর ও ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের দীর্ঘভূমি বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন খাল থেকে এ আর্টিলারি শেল দুটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া এসব বুমা একই দিন সন্যায় খোলা মাঠে নিয়ে পৃথক ভাবে ধ্বংস করা হয়।
থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাহেবাবাদ গ্রামের বন্যা পুকুরে ওই এলাকার ইউসুফ (৩৪) নামের এক ব্যাক্তি গতকাল বুধবার বিকেলে গোসল করার সময় কাদা মাটির ভিতর শক্ত কিছু অনুভব করে। এসময় সে ওই বস্তুটি (আর্টিলারি শেল) মাটির উপরে তুলে নিয়ে আসেন। আর্টিলারি শেল (বুম্ব) টি মূল্যবান কোন গুপ্তধন মনে করে বাড়ীতে নিয়া যায় এবং তার মা কে ডেকে এটি মায়ের হাতে দেয়। আর্টিলারি শেলটি দেখে তার মা তাকে বলেন এটা বোম্ব। আমরা যুদ্ধের সময় এগুলা দেখেছি। তখন ইউসুফ আর্টিলারি শেলটি রশি দিয়ে বেঁধে বাড়ীর পার্শ্বে ডোবার মধ্যে ফেলে রাখেন ও পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও বোমাটি নজরে রেখে পুলিশ পাহারা দেন। এছাড়া পুলিশের কাউন্টার টেরিজম বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেন।
খবর পেয়ে একইদিন সন্ধ্যায় উপপরিদর্শক (এস.আই) গোলাম মূর্তজা (বিপিএম) এর নেতৃত্বে পুলিশের কাউন্টার টেরিজম বোম ডিসপোজাল ইউনিটের একটি দল অবিস্ফোরিত আর্টিলারি শেলটি ডোবা থেকে উদ্ধার করে খোলা মাঠে নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করেন।
অপর দিকে উপজেলা সদরের দীর্ঘভূমি বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পার্শে খালের মধ্যে মো. খোকন মিয়া নামের এক ব্যাক্তি একইদিন রাতের বেলায় মাছ শিকার করেন। এক পর্যায়ে কাদা মাটির ভিতর শক্ত কিছু অনুভব করেন ও সেটি মাটির উপরে তুলে নিয়ে আসেন।
আর্টিলারি শেলটি অনেকে দেখতে পেয়ে তাকে বলেন এটা বোমা জাতীয় কোন কিছু হবে। আমরা এগুলো যুদ্ধের সময় দেখেছি। তখন বিষয়টি স্থানীয় লোকজন থানা পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে ওই দিন রাতেই থানা পুলিশ ও পুলিশের কাউন্টার টেরিজম বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটন্থালে পৌছে অবিস্ফোরিত আর্টিলারি শেলটি উদ্ধার করেন। পরে তারা এটি খোলা মাঠে নিয়ে বিস্ফোরন ঘটিয়ে ধ্বংস করেন।
এসময় ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ একরামুল হক, উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ও বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্য সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোঃ হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, সাহেবাবাদ গ্রামের বন্যা পুকুরে ওই এলাকার ইউসুফ নামের এক ব্যাক্তি গোসল করার সময় কাদা মাটির ভিতরে পাওয়া আর্টিলারি শেল পেয়ে মূল্যবান গুপ্তধন মনে করে বাড়ীতে নিয়ে মায়ের হাতে দেয়। এটি দেখে তার মা তাকে বলেন এটি বোম্ব বললে ইউসুফ তখন আর্টিলারি শেলটি রশি দিয়ে বেঁধে বাড়ীর পার্শ্বে ডোবার মধ্যে ফেলে রেখে পুলিশকে খবর দেয়।
এছাড়া, উপজেলা সদরের দীর্ঘভূমি বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পার্শে খালের মধ্যে মো. খোকন মিয়া নামের এক ব্যাক্তি একইদিন রাতের বেলায় মাছ শিকার করতে গিয়ে কাদা মাটির ভেতর থেকে অপর আরেকটি আর্টিলারীশেল পান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে একইদিন সন্ধ্যায় পুলিশের কাউন্টার টেরিজম বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সহযোগিতায় অবিস্ফোরিত আর্টিলারি শেল দুটি উদ্ধার করে খোলা মাঠে নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয়।










