28087

আগে শকুন মারি, তারপর নির্বাচন: শামীম ওসমান

নিউজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন, ‘সিটি করপোরেশনের নির্বাচন তো ডিসেম্বর মাসে। ডিসেম্বর মাসের আগেই কত খেলা হয় দেখেন। পুরোনো শকুন আকাশে উড়তেছে। আগে শকুন মারি, তারপর নির্বাচনের কথা দেখা যাবে। সবকিছু ভালো রাখলে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশ হবে অক্টোবরে।’

সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় রাইফেলস ক্লাবে নেতা-কর্মীদের ডেকে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ads

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে কর্মীসভার আয়োজন করার জন্য অনুসারী নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে এই কর্মীসভা শুরু হবে। চলবে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দৈনিক তিনটি ওয়ার্ডে এই কর্মীসভা চলবে। কর্মীসভার খোঁজখবর তিনি নিজে রাখবেন বলে জানিয়েছেন।

এসব জনসভা কিংবা কর্মীসভার আয়োজন আসন্ন সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয় বলেও দাবি করেছেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ থেকে একজন করে আসতে বলেছি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউকে আসতে বলিনি। নির্বাচন নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই। করোনার কারণে অনেকদিন আমরা একত্র হতে পারিনি। করোনার কারণে ষড়যন্ত্রকারী, দুর্নীতিবাজরা কিন্তু চুপ থাকেনি। তারা তাদের কাজ করে গেছে।’

ads

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘প্রস্তুত হও নারায়ণগঞ্জ। ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। গভীর ষড়যন্ত্র। বিষাক্ত সাপ যেকোনো সময় ছোবল মারার চেষ্টা করবে। নারায়ণগঞ্জে কোথায় কে সেইটা বাদ দেন। আমাদের কাজ দল গোছানো, দল গোছাবো। আমরা এইখানে মালাই খাইতে আসি নাই। কঠোর পরিবেশে, যেকোনো পরিস্থিতিতে এক টেলিফোনে যেন ঢাকার অভিমুখে যেতে পারি সেই প্রস্তুতি রাখতে হবে। যতক্ষণ নিশ্বাস আছে দলের জন্য, শেখ হাসিনার জন্য, দেশের মানুষের জন্য যেন কাজ করতে পারি। দোয়া করবেন।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭টা ওয়ার্ডে আগামী ৯ দিন কর্মীসভা হবে। তিনটা ওয়ার্ডে কর্মীসভা হবে একদিনে। জনসভা না কর্মীসভা। ফতুল্লার কাজ ফতুল্লা করবে। আমি সবগুলো ওয়ার্ডে যাবো। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের নেতার কার পায়ের তলে কতটুকু মাটি আছে তা আমি নিজ চোখে দেখতে চাই। যার পায়ের তলে মাটি নাই, সে নেতাগিরি ছাড়েন। আমি কর্মী, আমি কর্মীরে চিনি।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে স্বজনদের কবরে মাটি ফেলার প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বলেন, ‘ওই ঘটনায় তিনি যদি তার কষ্টের বহিঃপ্রকাশ করতেন এবং তাতে যদি তার পরিবার ও কর্মীরা উত্তেজিত হতো তাহলে নারায়ণগঞ্জে কেবল মাথা দেখা যেত মাটি দেখা যাইতো না।’

বক্তব্যের এক পর্যায়ে শামীম ওসমান কবরে মাটি ফেলা প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘মাটি এমনভাবে দেওয়া হইছে যে, কার কবর সেইটা বোঝা যাচ্ছিল না। আমি জানি, এই কষ্টটা আমি নিতে পারবো না। এই কারণে আমি একা গিয়েছিলাম কবরস্থানে। কারণ এই কষ্টের কারণে যদি আমার চোখের পানি পড়তো বা এই কষ্টের বহিঃপ্রকাশ যদি আমার মুখ দিয়ে বের হইতো, তাহলে নারায়ণগঞ্জে কেবল মাথা দেখা যাইতো না।’

তিনি বলেন, ‘আমি আমার কর্মীদের চিনি, আমি আমার পরিবারকে চিনি। আমি জানি, তারা যদি উত্তেজিত হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জের মাটিতে শুধু মাথা দেখা যাবে, মাটি দেখা যাবে না। অতটুকু মানুষ নামানোর ক্ষমতা আমার কর্মী ভাইদের আছে অতটুকু আমি জানি। তাই আমি বিচার আল্লাহর কাছে দিয়া দিছি। এইগুলো আল্লাহই দেখে নেবেন।’

সরকারদলীয় এই সাংসদ আরও বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থাপনার নাম আমার বাবা, মা, ভাইয়ের নামে করেছেন। আমরা খুশি হয়েছি, চোখে পানি এসেছে, আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি। এইটা নাকি টাকা-পয়সা দিয়ে কেনা হইছে। এই নিউজ আমাকে পাঠাইছে আমি দেখিও নাই। ছাগল-পাগল-কুত্তা-বিলাই কিছু কইলে তাতো শুনতে হয় না।’

কর্মীসভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি চন্দন শীলের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, সহসভাপতি অ্যাড. ওয়াজেদ আলী খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু প্রমুখ।

ad

পাঠকের মতামত