আইভী রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে ছাত্রলীগের শ্রদ্ধা
নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক বেগম আইভি রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে ছাত্রলীগ।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ছাত্রলীগ সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
২০০৪ সালের এই দিনে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইভি রহমান মারা যান।
২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলায় মারাত্মক আহত হন আইভি রহমান। তিন দিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর ২৪ আগস্ট তার মৃত্যু হয়।
বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য আইভি রহমানের পুরো নাম জেবুন নাহার রহমান আইভি। ১৯৪৪ সালের ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সম্ভান্ত পরিবারে তার জন্ম। তার পিতা জালাল উদ্দিন আহমেদ ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ও মা হাসিনা বেগম গৃহিণী ছিলেন। তার একমাত্র ছেলে নাজমুল হাসান পাপন বর্তমানে কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি। দুই মেয়ে তানিয়া বাখ্ত ও তনিমা রহমান ময়না।
ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্যদিয়ে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য জীবন শুরু হয় আইভি রহমানের। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে ভারতে গিয়ে সশস্ত্র ট্রেনিং নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭৮ ও ২০০২ সালের জাতীয় কাউন্সিলে পরপর দু’বার আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। ১৯৮০ সাল থেকে বেশ কয়েক বছর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।
রাজনীতি ছাড়াও আজীবন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন আইভি রহমান। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সভানেত্রী ও জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জাতীয় মহিলা সংস্থা এবং জাতীয় মহিলা সমিতির চেয়ারম্যান ছিলেন। নারী অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ও সমাজের অবহেলিত শিশু প্রতিবন্ধীদের কল্যাণেও এই নারীনেত্রীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ছিল।











