23031

ইয়েমেন যুদ্ধ : সৌদি যুবরাজ ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মধ্যে ফোনালাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেন যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে আলোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। বুধবার এক ফোনালাপে তাদের মধ্যে এই সকল বিষয়ে আলোচনা হয়।

পরে মোহাম্মদ বিন সালমান ও লয়েড অস্টিনের মধ্যে ফোনালাপ সম্পর্কে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এক বিবৃতি দিয়েছে।

ads

পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি বিবৃতিতে বলেন, ফোনালাপে লয়েড অস্টিন ও মোহাম্মদ বিন সালমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ইয়েমেন যুদ্ধ অবসানের তৎপরতা, সৌদির প্রতিরক্ষার উন্নয়নে চলমান দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আলোচনায় সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও জনগণের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের ওপর জোর দেওয়া হয়।

ads

হাউছি বিদ্রোহীদের হামলা ঠেকাতে সৌদির সাম্প্রতিক সাফল্যের কথা মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখ করেন লয়েড অস্টিন। একই সঙ্গে ইয়েমেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গে সৌদি আরব কাজ করায় মোহাম্মদ বিন সালমানকে ধন্যবাদ জানান লয়েড অস্টিন।

২০১১ সালে আরব বসন্তের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের বিক্ষোভের জেরে ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক আলী আবদুল্লাহ সালেহ সরকারের পতন ঘটে। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদি দায়িত্ব নেন। নতুন সরকার গঠন হলেও ইয়েমেনের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকে।

বিবাদমান পক্ষগুলোর দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৪ সালের শেষে ইরান সমর্থিত উত্তর ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করলে প্রেসিডেন্ট হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বের জোট হাউছিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে আগ্রাসন করলে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের মুখে পড়ে আরব উপদ্বীপের দরিদ্রতম দেশটি।

ছয় বছরের বেশি সময় চলমান এই গৃহযুদ্ধে হাউছি নিয়ন্ত্রিত সানাকেন্দ্রীক উত্তর ইয়েমেন ও বন্দর নগরী এডেনকেন্দ্রীক দক্ষিণাঞ্চলীয় সরকারের অধীন দক্ষিণ ইয়েমেনে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

গত বছর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সৌদি মধ্যস্থতায় দক্ষিণের সব শক্তিকে একত্রিত করে নতুন এক ঐক্য সরকার গঠন করা হয়। সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদি ও আমিরাতের সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী এসটিসিকে একত্রিত করে এই সরকার গঠিত হয়।

ইয়েমেনে চলমান যুদ্ধ-সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই বেসামরিক লোকজন। এছাড়া যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখো মানুষ।

ছয় বছরের টানা যুদ্ধ ও অবরোধে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ইয়েমেন। ইতোমধ্যে ক্ষুধায় ৫০ হাজারের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে দেশটিতে। ইয়েমেনের চলমান পরিস্থিতিকে বিশ্বের নিকৃষ্টতম মানবসৃষ্ট মানবিক সংকট হিসেবে হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসঙ্ঘ।

সূত্র : রয়টার্স

ad

পাঠকের মতামত