21572

সাংবাদিকতা কেন করি?

খালেদ মুহিউদ্দীনঃ আমরা সাংবাদিক, খুব অল্প লোকই আমাদের ভাল বলে। আজকে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস বলে হয়ত আমাদের আরও বেশি গালাগাল হজম করতে হচ্ছে।

কিন্তু কেন? অনেকরকম উত্তর হয়। আমি একটু ঘুরিয়ে বলি, এখনকার বাংলাদেশে আপনি একটি পেশা দেখাতে পারবেন না যে পেশার মানুষেরা সমালোচিত নন। হয়ত আপনি পারবেন, আমি পারছি না।

ads

আমি দেখি, পুলিশ, আমলা, মিলিটারি, উকিল, ডাক্তার, যাজক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, জেলে, চাষী, রিক্সাওয়ালা, গৃহকর্মী, নাপিত, দারোয়ান, পালোয়ান, নায়ক, গায়ক, পাচক, বিচারক, লেখক, প্রকাশক, ব্যাংকার বা ক্রিকেটার সবাই একেকজন যেন একেকটি ভয়াল অধ্যায় আর ভয়ঙ্কর এক চরিত্র। এই জঙ্গলে আমরা সকলেই উদ্যত হায়েনা চোখ রাখি সারাক্ষণ মৃত আর জখমের উপর।

বন্ধুরা, আপনাদের মধ্যে যারা এমন পেশায় আছেন, যা নিয়ে সমালোচনা নেই বা যা করার জন্য কোনো গ্লানি বোধ করতে হয় না, আমাকে একটু জানাবেন।

ads

আমি সাংবাদিকতা করি, কারণ আমি ১৯৯৩ সাল থেকে সাংবাদিকতা পড়ি-পড়াই, করি-করাই। অন্তত আরও তিনটি ভিন্ন ধরনের চাকরি চেষ্টা করেছি, পারি নাই। সাংবাদিকতা করি, কারণ তা আমার জন্য সহজ। আমার কোনো বাড়তি গুণের জন্য আমি তা করি না। অন্যকিছু বেশি ভাল পারলে বা এককথায় বেশি পোষালে বা সরল করে বললে কম কাজ করে বেশি পয়সা পেলে হয়ত অন্য কিছু করব।

মুক্ত বা চাপমুক্ত গণমাধ্যম আমার কাছে সোনার পাথরবাটির মত লাগে। আপনি সকলের ফুটো অনুসন্ধান করবেন আর কেউ আপনাকে চাপ দেবে না এটা হতেই পারে না। চাপে না থাকলে বুঝবেন আপনি এখন খানিক ইতিহাস পুরাই অপ্রাসঙ্গিক।

সেই চাপের মুখে আপনি, আমি কি করি তাই হয়ত লেখা থাকে স্পর্শের বাইরে কোনো মলাটে অথবা কোনো অদৃশ্য ললাটে। আমি অবশ্য সবসময় মনে করি, না পোষালে মানে আপনার পছন্দ না হলে ছেড়ে দেওয়া ভাল। যেকোনো অজুহাতে ধরে রাখলে ধরে নিতে হবে আপনি কাজটি পছন্দ করছেন।

আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা!

লেখক: খালেদ মুহিউদ্দীন

জার্মানভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগের প্রধান।

ad

পাঠকের মতামত