সৌদি ও আমিরাতের বড় বিনিয়োগে সমন্বয়ের ইঙ্গিত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর উন্নয়নে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আগ্রহ এবং এ সংক্রান্ত বিনিয়োগের পৃথক সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবে সায় দিতে যাচ্ছে ঢাকা। উভয়কে খুশি রেখেই এ খাতে বিনিয়োগ গ্রহণ করবে বাংলাদেশ। এ নিয়ে দেশ দু’টির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে ঢাকার ঘোষণা আসছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি। সৌদি ও আমিরাত সফরের অর্জন বিষয়ক গতকালের সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান। মানবজমিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বড় বিনিয়োগ প্রশ্নে দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে, কিন্তু কোনো দ্বন্দ্ব নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার এক যুগ ধরে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগের সমন্বয় করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। চীন, জাপানসহ অন্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ যেভাবে ব্যালেন্স করেছে সৌদি এবং আমিরাতের বিনিয়োগ প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও একইভাবে উইন-উইন অর্থাৎ উভয়কে খুশি রেখেই তা গ্রহণ করা হবে। কূটনৈতিক সূত্র আগেই জানিয়েছিল- সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর উন্নয়নে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখানো হয়েছে।
সে ক্ষেত্রে সৌদি প্রতিষ্ঠানের তরফে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠানের তরফে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগ প্রস্তাব রয়েছে।
প্রবাসীদের পাসপোর্টের মেয়াদ বৃদ্ধিতে ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত: এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) রি-ইস্যু সংক্রান্ত জটিলতায় আপাতত প্রবাসীদের পাসপোর্টের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে তাদের ভিসাসহ অন্য ঝামেলা কিছুটা হলেও মিটবে। আর পাসপোর্টের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ফি-ও মওকুফ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বুধবার নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শাহরিয়ার আলম বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বুধবার একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি প্রবাসীদের পাসপোর্টের এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ফি না নিতে। এ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেবো। তিনি বলেন, প্রবাসে এক বছর পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়াতে ২৫ ডলার ফি নেয়া হয়। এই ফি লাগবে না। সৌদি আরবে টিকা নেয়ার জন্য তাওয়াক্কাল অ্যাপে আবেদন করতে হয়। আমাদের প্রবাসীদের, যাদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তারা টিকা নিতে পারছিলেন না। পাসপোের্েটর মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তাদের কাজকর্মে যোগদানেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এক বছর মেয়াদ বাড়ালে তাদের সেই ঝামেলা কিছুটা হলেও মিটবে। বিষয়টি নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে বলে জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার আলম বলেন, সৌদির বড় বিনিয়োগ আনতে হলে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে কি আলাপ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সৌদি সীমান্তে মাইন অপসারণে সহায়তা লাগলে আমরা সেটা দেবো। কুয়েত যুদ্ধের পর গত তিন যুগ ধরে আমরা ওই অঞ্চলে এ সহায়তা দিয়ে আসছি। সৌদি আরব রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর কথা বলেনি বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সৌদি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তিনি খুব স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশ-সৌদি আরবের মধ্যে কোনো ইস্যু নেই। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে ডিটেনশন ক্যাম্পে গত বছর আমাদের জেদ্দা মিশন থেকে কর্মকর্তারা ৬৭১ বার গেছেন। সেখানে আমাদের শুধু বর্ডার এন্ট্রি নম্বর দেয়া হয়েছে। আমরা অনুরোধ করেছি নাম, পাসপোর্ট নম্বর দেয়ার জন্য। নাম, পাসপোর্ট নম্বর পেলে আমরা সেটা যাচাই বাছাইয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি। সেই কমিটি তথ্য যাচাই করবে। রোহিঙ্গাদের ফেরত আনতে হবে, এটা সৌদি আরব বলেনি। তিনি বলেন, অতীতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম এলাকা থেকে কিছু লোক নানাভাবে পাসপোর্ট নিয়ে গেছে। আবার হাতে লেখা পাসপোর্ট অন্য দেশ থেকেও বানিয়ে নেয়া যায়। সে কারণে আমরা এমআরপি পাসপোর্ট প্রাধান্য দিতে চাই। এমআরপি পাসপোর্ট আমরা সহজেই রিনিউ করতে পারি। তবে রোহিঙ্গাদের দেখলেই বাংলাদেশি বলে প্রচারণাও চালানো হয় বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। সৌদি আরবে তিনদিনের সফর শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বুধবার সকালে ঢাকায় ফিরেছেন। তার আগের সপ্তাহে তিনি আমিরাত সফর করেন।










