বন্যপ্রাণী রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ উদ্যোগে কাজ চলছেঃ বনমন্ত্রী
ডেস্ক রিপোর্ট: বন্যপ্রাণী রক্ষায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। এছাড়া বাঘ, হাতি, হরিণসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী রক্ষায় সংরক্ষিত, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল থেকে গাছ কাটা বন্ধ করা এবং আইন ও বিধিমালা যুগোপযোগীকরণসহ বিভিন্ন কার্যকরী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
‘মানুষ ও পৃথিবী বাঁচাতে: বন ও জীবিকা’ প্রতিপাদ্যে বুধবার বন অধিদফতরে আয়োজিত বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস-২০২১ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
বনমন্ত্রী বলেন, বন্যপ্রাণী রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ উদ্যোগে কাজ করছে। উভয় সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ, বাঘ ও শিকারী প্রাণী পাচার বন্ধ, দক্ষতা বৃদ্ধি, মনিটরিং ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি প্রটোকল ও একটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ২০২০ সালে ২৯৫১টি বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ৪৬ জন অপরাধীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার বন্ধের লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত অপরাধ দমনে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে সরকার ৪৯টি এলাকাকে ‘রক্ষিত এলাকা’ ঘোষণা করেছে। বন্যপ্রাণীর বংশবিস্তার ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে কক্সবাজার ও গাজীপুরে ২টি সাফারি পার্ক স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলায় ১টি নতুন সাফারি পার্ক স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী ও তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য দেশব্যাপী নানাবিধ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে জাতীয়ভাবে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু এওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন’ প্রবর্তন করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী বিষয়ক অপরাধ নিরসনের লক্ষ্যে ‘অপরাধ উদঘাটনে তথ্য প্রদানকারীকে পুরস্কার প্রদান বিধিমালা, ২০২০’ জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি সরকার ‘মহাবিপন্ন’ শকুন রক্ষায় ‘কিটোপ্রোফেন’ জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধের উৎপাদন বন্ধ করে ‘ম্যালোক্সিক্যাম’ নামে একটি ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করার কথাও জানান তিনি।










