17834

সদর দপ্তরবিহীন প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি বাতিল করবে সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব। একইসঙ্গে দেশটি বিশ্বের একমাত্র শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক। তবে এবার অর্থনীতিতে বিশাল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সৌদি সরকার।

দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান তৈরিসহ বিভিন্ন উন্নয়নে এবার শর্ত আরোপ করছে মোহাম্মদ বিন সালমান সরকার। দেশটির অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান বলেছেন, সৌদিতে সদর দপ্তরবিহীন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যদি সৌদি সরকারের বিনিয়োগ সুবিধাগুলো বেছে নিতে চায়, তাহলে ২০২৪ সালের মধ্যে সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে ও বিনিয়োগ সেক্টর বেছে নিতে হবে। অন্যথায় তারা সরকারের সাথে চুক্তিতে সফল না বলেও জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান।

ads

বার্তা সংস্থা রয়টার্স দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানায়, যে সব আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর কিংডমে নেই, এমন সংস্থা বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি বন্ধ করারও পরিকল্পনা রয়েছে সৌদির। এর মধ্য দিয়ে বিদেশী সংস্থাগুলোকে স্থায়ীভাবে হেডকোয়ার্টার খুলতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে হলো, স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরি করতে সহায়তা করা। যদিও কোন প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর না থাকলেও তারা কাজ করতে পারবে, তবে সেটা বেসরকারী খাতের সাথে কাজ করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান রয়টার্সকে আরো জানিয়েছেন যে, ‘কিছু খাতকে সিদ্ধান্ত থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে এবং ২০২১ সাল শেষের আগে বিস্তারিত প্রবিধান জারি করা হবে। এই অঞ্চলে সৌদি আরবের বৃহত্তম অর্থনীতি এবং জনসংখ্যা রয়েছে, যদিও আঞ্চলিক সদর দফতরের আমাদের ভাগ নগণ্য, বর্তমানে ৫ শতাংশেরও কম। এফডিআই (বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ), জ্ঞান স্থানান্তর এবং চাকরি সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কার্যকরি।’

ads

সৌদি আরবের ডি-ফ্যাক্টো শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, উচ্চাভিলাষী সংস্কারের কৌশল গ্রহণের পরই এমন নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে দেশটি অর্থনীতিতে তেল নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে চাইছে। এই লক্ষ্যেই দেশটিতে মুক্ত বাণিজ্য এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যার লক্ষ্য তেল-নির্ভর অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করা, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং লক্ষ লক্ষ তরুণ সৌদিদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা।

ad

পাঠকের মতামত