10089

করোনাকাল: উচ্চ রক্তচাপ এবং মৃত্যু

চেতনায় একাত্তর নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসক ও গবেষকদের অনেক ধারণাই এখন আর খাটছে না কোভিড ১৯ সংক্রমণের ক্ষেত্রে। দেশে করোনা শণাক্তের চার মাস পূর্ণ হলো আজ। প্রথম দিকে সংক্রমণ বিস্তারের গতি ধীর থাকলেও যত দিন যাচ্ছে ,তা তীব্র হচ্ছে। দেশে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ২১৫১ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন শনাক্ত রোগী ৩ হাজার ২৭ জন।মারা গেছেন ৫৫ জন। প্রথম তিন মাসের তুলনায় চতুর্থ মাসে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোই অনেক বেড়েছে। মোট রোগীর ৫৯ শতাংশের বেশি শনাক্ত হয়েছে চতুর্থ মাসে। আর মোট মৃত্যুর ৫৭ শতাংশ ছিল এই এক মাসে। করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে দেশের প্রত্যন্ত অন্চলে। দূর্গম পাহাড়, প্রথমে বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বা সুন্দরবন সংলগ্ন জনপদে সংক্রমণের পাশাপাশি আতংকও ছড়িয়েছে। শহর থেকে দূরে থাকা মানুষের অসহায়ত্ব বাড়ছে প্রতিদিন। এই অবস্থায় আলোচিত বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে কোমর্বিডিটি। জানা যায় দেশে উচ্চ রক্তচাপ জনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ:ই উর্ধমূখী। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যায় উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে যে সমস্ত মানুষের তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বেশি।

অনেকদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভূগছেন, এ সমস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে লিঙ্গ বয়স নির্বিশেষে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। এই সমস্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কেন বেশি এই নিয়ে বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, উচ্চ রক্তচাপ মানেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন ইতালির ক্ষেত্রে তা ৭৬ শতাংশ। যাদের বয়স ৬০ পেরিয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দুই তৃতীয়াংশই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভূগছেন বিশ্বজুড়ে ।

ads

উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে মাস্ক না পরা আত্মহত্যার শামিল। যেহেতু উচ্চ রক্তচাপের আক্রান্ত ব্যক্তির
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল থাকে তাই জীবানু প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও ক্ষীণ হয়ে যায়।সেক্ষেত্রে স্যানিটাইজার এবং বার বার হাত ধোয়ার নিয়ম মেনে চলতে হবে। ভাইরাস বংশবৃদ্ধি করলে আগে প্রতঙ্গগুলোকে নষ্ট করে দিতে পারে সহজেই। অতএব মাস্ক না পরে বেরোলে সংক্রমণের সঙ্গে মৃত্যুর আশংকাও বেশি।

এজন্য উচ্চ রক্তচাপের সামান্য সমস্যা রয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।ওষুধের ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম চলবে না। ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত ওষুধ সেবন সহ স্বাস্থ্য বিধি সমূহ যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। ৩০ বা ৪০ এর কোঠায় যাদের বয়স উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে করোনার এই সময়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে তাদেরও।মাস্ক পরা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা বার বার হাত ধোয়ার সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে ভীড় এড়াতেই হবে।ভীড়ে মাস্কবিহীন কোনও উচ্চ রক্তচাপের রোগীর যাওয়ার অর্থ মৃত্যুকে ডেকে আনা। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা মানে কিডনির স্বাভাবিক ক্রিয়ায় প্রভাব পড়বেই। নজর রাখতে হবে সেদিকেও। এছাড়াও স্ট্রোক ও হার্ট এ্যাটাক হতে পারে যেকোনও সময়। এজন্যই নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপ মনিটর করা দরকার।

ads

মে মাসের শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত দেশে একই মাত্রায় সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। এখনও কমার লক্ষণ নেই, সংক্রমণ এমনি এমনি কমবে না। সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা, নমুনা পরীক্ষা, কন্টাক্ট ট্রেসিং, আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন সংক্রমণ নিয়ণ্ত্রণের এসব মৌলিক কাজ
গত চার মাসে গতি পায়নি। এমতাবস্থায় ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি সমূহ মেনে চলার বাইরে বিকল্প কিছু নেই।

ad

পাঠকের মতামত