8467

করোনায় মৃত পুলিশ সদস্যের কুমিল্লায় দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মারা যান পুলিশের কন্সটেবল জসিম উদ্দিন। নিহত কন্সটেবল জসিম (৩৯) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামের মৃত আবদুল হকের ছেলে।

আজ বুধবার বিকেলে নিজ গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয় জসিমকে।

ads

নিহত জসিমের জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং থানা অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর হোসেন মিঠু, পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ আলম, দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ হোসেন, এস আই সুজয় ও পরিবারের লোকজন।

নিহত জসিম ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমিপ) ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী থানায় কর্মরত ছিলো। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

ads

গত ২৪ এপ্রিল তার শরীরে প্রথম করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। মঙ্গলবার রাত ১০টায় তিনি মারা যান।

আজকের পরীক্ষার রিপোর্ট আসে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইফতেখার আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘গত ২৪ এপ্রিল করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ার পর তার স্যাম্পল নিয়ে আইইডিসিআরে পাঠানো হয় এবং তাকে পাঠানো হয় রাজারবাগে হোটেল আল সালামে পুলিশি তত্ত্বাবধানে হোম কোয়ারেন্টাইনে। গত রাতে তিনি ঢামেক হাসপাতালে মারা যান। আজকে করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট হাতে পেয়েছি।’

করোনাযুদ্ধে প্রথম পুলিশ সদস্য হিসেবে জসিম মারা যাওয়ায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ওয়ারীর ডিসি ইফতেখার। তিনি বলেন, আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। তিনি আরও বলেন, জাতীয় ও বৈশ্বিকভাবে করোনার যে প্রাদুর্ভাব, এটা মোকাবিলায় চিকিৎসক-নার্সদের পাশে থেকে ফ্রন্টলাইন ফাইটার হিসেবে কাজ করছে পুলিশ। পুলিশ সদস্য হিসেবে করোনায় জসিমই প্রথম মারা গেলেন। এটা আমাদের বাহিনীর জন্য দুঃখের ও অপূরণীয় ক্ষতির। দুঃখজনক যেকোনো মৃত্যুই কাম্য নয়।

‘আবার একই সঙ্গে (জসিমের মৃত্যু) গর্বের বিষয়। করোনার এই সংকটকালে জাতির সেবায় পুলিশ কনস্টেবল জসিম যেভাবে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে গেলেন, তা বাংলাদেশ পুলিশকে, একই সঙ্গে পরিবারকেও গর্বিত করবে। এই মহাদুর্যোগ মুহূর্তে সম্মুখ সারিতে থেকে সাহস, দৃঢ়তা রেখে যে জাতি ও দেশকে ডিএমপির তথা পুলিশের একজন সদস্য হিসেবে যে সহযোগিতা তিনি করে আসছিলেন, এটা আসলে গর্বের মৃত্যু বলে আমি মনে করি। তার মৃত্যু পুলিশের প্রত্যেকটি সদস্যকে গর্বিত করবে, উৎসাহিত করবে, কাজের মনোবলকে আরও বাড়িয়ে দেবে’- বলেন ওয়ারী ডিসি ইফতেখার আহমেদ।

ad

পাঠকের মতামত