বিসিজি টিকা দেয়ার ফলে বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনা কম
নিউজ ডেস্ক: টিকা এক ধরণের প্রতিষেধক যা একটি শিশু জন্মের পর থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে দেয়া হয়ে থাকে। আমাদের দেশে সকল শিশুদেরই টিকা দেয়া হয়। এক্ষেত্রে সরকার ও মানুষ উভয়েই সচেতন৷ এরকম একটি টিকার নাম বিসিজি টিকা, যা যক্ষা রোগের প্রতিষেধক হিসেবে দেয়া হয়ে থাকে৷
এইসকল টিকার জন্য দেখা যায় হাতে বিশাল দাগ হয়ে থাকে, যার জন্য অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু এখন জেনে ভাল লাগবে (একটা গবেষণা পত্রের তথ্য) যেসকল দেশে বিসিজি টিকা (bacillus Calmette-Guérin) দেয়া হয় সেসকল দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা কম।
স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মেডআর্কাইভ গত ২৪ মার্চ ওই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমনে বিপর্যস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেন, বেলজিয়ামে জাতীয়ভাবে বিসিজি টিকা কর্মসূচি নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে এই টিকা শুধু তাদেরই দেওয়া হয়, যাদের ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয়।
ইতালিতে কখনও সার্বজনীন বিসিজি টিকা দেওয়া হয়নি।
ইরানেও বিসিজি টিকা দেওয়া হয় ১৯৮৪ সাল থেকে, অর্থাৎ সেখানে ৩৬ বছরের বেশি বয়সীরা সুরক্ষিত নয়।
করোনার জন্মস্থান চীনে বিসিজি টিকা দেওয়া হলেও তা ১৯৭৬ সালের আগে ততটা ভালো ছিল না।
অন্যদিকে, জাপান ১৯৪৭ সাল থেকে বিসিজি টিকা দিয়ে আসছে। দেশটিতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ও মৃত্যু হার কম।
ইরানে যেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হার যখন ১৯.৭%, জাপানে তা ০.২৮%।
আবার ১৯২০ সালেই ভ্যাকসিনটি ব্রাজিলে সর্বজনীন, এ দেশে মৃত্যুহার মাত্র ০.০৫৭৩%।
দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কিছু দেশ এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে, তাদের সার্বজনীন বিসিজি টিকা নীতি রয়েছে।
এবার আসি বাংলাদেশের কথায়, এদেশে ১৯৭৯ সাল থেকে নবজাতকদেরও বিসিজি টিকা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।সারা দেশের এখন প্রায় ৯৯.৭৬% মানুষের শরীরে এই টিকা দেয়া হয়েছে। হাওর, পাহাড়ি এলাকা এবং যেসব এলাকাতে মানুষের যাওয়া-আসাও কষ্টকর, সেসব এলাকাতেও আমাদের এই টিকাদান (বিসিজি) কার্যক্রম চালু থাকে। আলহামদুলিল্লাহ।
এটা অবশ্যই আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক ব্যাপার৷ কিন্তু তাই বলে, আমরা নিরাপদ, এমন ভাবাটা বোকামি হবে। এটি একটি গবেষণাপত্র। এটি স্বত্বসিদ্ধ বৈজ্ঞানিক ফ্যাক্ট হিসেবে দাঁড় করানোর জন্য প্রয়োজন আরো অনেক সফল গবেষণা। তাই অসতর্ক হওয়া একদম চলবে না৷ সতর্কতা, সচেতনতা ও আল্লাহর উপর আস্থাই পারে এই মহামারী থেকে আমাদের রক্ষা করতে।
তথ্যসূত্রঃ Medical Archive Journal
The Economic Times
The Forbes (magazine)
The Fortune (magazine)
Bdnews 24









