65151

এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ওষুধ শিল্প মালিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, দ্রুত সমাধানের নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক: এলডিসি উত্তরণের পর দেশের ওষুধ খাতে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে ওষুধ শিল্প সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) উৎপাদন এবং বিশেষ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ম্যাচিউরিটি লেভেল-৩’ (এমএল-৩) অর্জনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট নেতারা। সোমবার (১ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির (বিএপিআই) প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ads

সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির (বিএপিআই) কোষাধ্যক্ষ ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিইও মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর দেশে ওষুধ সরবরাহে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হবে কি না—এ বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহ ছিল। সম্ভাব্য ঝুঁকি থাকলে তা কাটিয়ে উঠতে সরকারের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়েও তিনি দিকনির্দেশনা চান।

ads

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর মূল ফোকাস ছিল—গ্র্যাজুয়েশনের পর যেন দেশের জনগণ ওষুধের অভাবে না পড়ে। এ জন্য এপিআই উৎপাদন, ওষুধের সহজলভ্যতা এবং সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।”

বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও উঠে আসে। বিশেষ করে, ভ্যাকসিন ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘প্রি-কোয়ালিফিকেশন’ না থাকায় অনেক দেশে বাংলাদেশের ওষুধ প্রবেশ করতে পারছে না। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু ‘নিশ’ মার্কেটে সীমিত আকারে রপ্তানি হচ্ছে।

হালিমুজ্জামান আরও বলেন, গ্লোবাল ফান্ড, গ্যাভি এবং ইউনিসেফের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে যে ওষুধ ক্রয় হয়, সেখানে অংশগ্রহণ করতে হলে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অর্জন জরুরি। এ জন্য ‘ম্যাচিউরিটি লেভেল-৩’ অর্জন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে এপিআই খাতের অগ্রগতি সম্পর্কেও খোঁজ নেন সরকারপ্রধান। এ খাতে জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন শিল্প মালিকেরা। প্রধানমন্ত্রী তা সমাধানে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির (বিএপিআই) সভাপতি ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “ভ্যাকসিন ও বায়োলজিক্যাল ওষুধের নতুন ফর্মুলার অনুমোদন এবং রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।”

বৈঠকে ওষুধ নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা, নতুন ওষুধ বাজারে আনার অনুমোদন ত্বরান্বিত করা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়েও আলোচনা হয়। খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে বিদ্যমান জটিলতা দূর করার আশ্বাস দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠকের ফলে এলডিসি পরবর্তী সময়ে ওষুধ শিল্পে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।

ad

পাঠকের মতামত