62971

বেইজিংয়ের কার্নি–শি’র দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, কানাডা–চীন সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বাণিজ্য চুক্তি ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি চীনা রাষ্ট্রপতি শি চিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান দুই নেতা, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে অটোয়া ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্ক টানাপড়েনপূর্ণ ছিল। ২০১৭ সালে জাস্টিন ট্রুডো চীন সফর করার পর থেকে সম্পর্কের উত্তেজনা কিছুটা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে ভ্যাংকুভারে হুয়াওয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক চরমভাবে অবনত হয়।

ads

বেইজিং পৌঁছানোর পর বুধবার সন্ধ্যায় কার্নি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এরপর তিনি কাতারের আমিরের সঙ্গে আলোচনার জন্য দোহায় পৌঁছাবেন। চীন সফরকে কানাডার জন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দুই দেশই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা অতীতের উত্তপ্ত অধ্যায় পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগোতে চায়। হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তার গ্রেপ্তার এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চীনে কানাডীয় নাগরিকদের আটক সংক্রান্ত ঘটনার কারণে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব কাটিয়ে ওঠাই এখন লক্ষ্য।

ads

তবে সম্পর্কের পথে এখনও বহু সম্ভাব্য মতবিরোধ রয়ে গেছে। অতীত অভিজ্ঞতা কানাডার জন্য একটি সতর্কবার্তা। অটোয়া যদি কোনো সিদ্ধান্তে বেইজিং অসন্তুষ্ট হয়, তার পরিণতি কী হতে পারে, তা আগে দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প খুঁজতে আগ্রহী হলেও কানাডার নেতৃত্বের মূল্যবোধ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা অনেক সময় বেইজিংয়ের কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করতে পারে।

চীনে কানাডার নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এখনও রয়ে গেছে। এছাড়া, বেইজিংয়ে বর্তমানে কানাডীয় সাংবাদিকের সংখ্যা সীমিত, এবং সম্পর্ক শীতল হওয়ার পর কোনো বড় কানাডীয় গণমাধ্যম সেখানে ফিরে যায়নি।

দুই দেশের নেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এমন একটি ক্ষেত্র খুঁজে বের করা, যেখানে উভয় পক্ষই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবে। এই সফর বাণিজ্য বিরোধ মীমাংসায় একটি বাস্তব চুক্তির পথ সুগম করতে পারে।

তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং কানাডার নির্বাচনে হস্তক্ষেপের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো কিভাবে সামলানো হবে, সেটিই শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সম্পর্কের পরীক্ষার মূল দিক হিসেবে রয়ে গেছে। তথ্যসূত্র : বিবিসি

ad

পাঠকের মতামত