41031

তাঁবুর নিচে তুরস্কের ১৬ লাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কে ১৬ লাখের বেশি মানুষ এখন তাঁবুতে ঘুমাচ্ছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটির দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে আশ্রয়শিবির গড়ে তোলা হয়েছে। আর এসব শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে লাখ লাখ মানুষ।

আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে দক্ষিণ তুরস্কজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূলত ভূমিকম্পে হাজার হাজার ভবন ভেঙে পড়ায় লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে। তাদের ঠিকানা এখন খোলা আকাশের নিচে।

ads

প্রতিবেদনমতে, ভূমিকম্পে তুরস্কের প্রায় ৬ হাজার ভবন পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৭৪ হাজার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো আর বসবাসের উপযোগী নেই। এসব ভবন থেকে ৩ লাখ ৭৪ হাজার বাসিন্দাকে আশ্রয়শিবিরে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

আল জাজিরা বলছে, ভূমিকম্পের ফলে কতজন মানুষ গৃহহীন হয়েছে তার কোনো পরিসংখ্যান এখনও পাওয়া যায়নি। তবে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সরকার এখন পর্যন্ত ১৬ লাখ মানুষের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে।

ads

এদিকে তুরস্ক ও সিরিয়ার ভূমিকম্পে দুই দেশে মৃতের সংখ্যা ৪৬ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র তুরস্কে ৪০ হাজার ৬৪২ জন। আর সিরিয়ায় ৫ হাজার ৮০০। উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে এবং ভূমিকম্পের ১৩ দিন পরও এখনও মাঝে মাঝেই ধ্বংসস্তূপে প্রাণের সন্ধান মিলছে।

শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভূমিকম্পের ২৭৮ ঘণ্টা পর তুরস্কের হাতায় প্রদেশে বিধ্বস্ত ভবনের নিচ থেকে ৪৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া এক শিশুসহ অন্তত ৩ জনকে উদ্ধার করেছেন তুর্কি উদ্ধারকর্মীরা।

এদিকে গত ৯ ফেব্রুয়ারির পর থেকে এখন পর্যন্ত তুরস্ক থেকে উত্তর সিরিয়ায় ১৭৮ ট্রাক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেছে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এসব ত্রাণ সহায়তা সিরিয়ার ভূমিকম্প কবলিত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র জেনস লার্কে শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বলেন, ট্রাকগুলো জাতিসংঘের ছয়টি সংস্থা থেকে বিভিন্ন সহায়তা উপকরণ নিয়ে গেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে তাঁবু, বিছানা, কম্বল, শীতের পোশাক, কলেরা টেস্টিং কিট, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির দেয়া খাদ্য।

ad

পাঠকের মতামত