১৩০ বছর পর দলিত নেতা কংগ্রেস সভাপতি
নিউজ ডেস্কঃ দীর্ঘ দুই দশক পর ভারতের ইতিহাসে গান্ধী পরিবারের বাইরে দেশটির জাতীয় কংগ্রেসে কেউ সভাপতির দায়িত্ব পেল। উপমহাদেশের অন্যতম পুরনো রাজনৈতিক দল ভারতীয় কংগ্রেসের নতুন সভাপতি হয়েছেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী শশী থারুরকে বড় ব্যবধানেই হারিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) দিল্লিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচিত নতুন সভাপতির নাম ঘোষণার পরই প্রায় দুই দশক পর গান্ধী পরিবারের বাইরে সভাপতি পেল দলটি। আর কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৩০ বছরের ইতিহাসে তিনি দলিত নেতা হিসেবে এই পদে আসীন হলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ নয়া ‘অধিনায়ক’ হিসেবে মল্লিকার্জুন খাড়গেকে বেছে নিল কংগ্রেস। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং তার আগে একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে লড়াই করতে হবে খাড়গের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসকে। প্রায় সাড়ে ৯ হাজার ডেলিগেটের ভোটের মধ্যে ৭ হাজারেরও বেশি ভোট যায় খাড়গের ঝুলিতে। প্রতিদ্বন্দ্বী শশী থারুর পান মাত্র ১০০০ ভোট।
১৩০ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে কংগ্রেসে আজও পর্যন্ত ৪১ জন সভাপতি হয়েছেন। মল্লিকার্জুন খাড়গে তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দলিত হিসেবে দলের সর্বোচ্চ পদে আসীন হলেন আজ। এর আগে ২০০০ সালে শেষবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল কংগ্রেস সভাপতি পদের জন্য। সেবার জগজীবন রামকে হারিয়ে সভাপতি হয়েছিলেন সোনিয়া গান্ধী।
এরপর থেকে পরবর্তী দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কংগ্রেস সভাপতি থেকেছেন কোনোও এক গান্ধী। তবে ২০২২ সালে শেষমেষ সেই ধারাবাহিকতা ভাঙল।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও কংগ্রেসের রাশ গান্ধীর হাতেই থাকবে বলে মনে করে রাজনৈতিক মহল। গান্ধীদেরকে সঙ্গে নিয়েই নতুন সভাপতিকে দল পরিচালনার কাজ করতে হবে এই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন খাড়গে। নিজেকে গান্ধীদের ‘রিমোট কন্ট্রোল’ বলতে নারাজ। তবে দল এবং দেশে গান্ধীদের ভূমিকা নিয়ে সরব থেকেছেন খাড়গে। এদিকে নিজের হার মেনে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী খাড়গেকে নির্বাচনে জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শশী থারুর।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগেই মল্লিকার্জুন খাড়গেকে দলের সভাপতি বানিয়ে দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। আজ কংগ্রেসে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাহুল গান্ধী বলেন, আমার ভূমিকা নির্ধারণ করবেন কংগ্রেস সভাপতি… খাড়গেজিকে জিজ্ঞাসা করুন। রাহুল যখন এই মন্তব্য করেছিলেন তখনও কংগ্রেস সভাপতি পদের নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়নি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস









