ট্রাম্পের সঙ্গে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের ফোনালাপ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থনৈতিক সহায়তার তাগিদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে অংশ নিয়েছেন সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। রবিবার সিরিয়ার রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ফোনালাপে দুই নেতা সিরিয়ার ভঙ্গুর অর্থনীতিতে মার্কিন সমর্থন এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
আলোচনা চলাকালীন প্রেসিডেন্ট শারা জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে এবং দেশটিতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলো সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা অত্যন্ত জরুরি।
এর আগে ওয়াশিংটন সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত ‘সিজার অ্যাক্ট’ বাতিলসহ সিরিয়ার বিরুদ্ধে থাকা বেশির ভাগ বড় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।
তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনো কিছু সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক শাসক আসাদ এবং তার সহযোগীদের পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী, মাদক কারবারি (বিশেষ করে ক্যাপটাগন চোরাচালানকারী) এবং এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরিতে জড়িত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই মূলত এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বজায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে তালিকাভুক্ত রাখার বিষয়টিও ওয়াশিংটন বর্তমানে পুনর্বিবেচনা করছে, যার কারণে মার্কিন বৈদেশিক সহায়তা এবং প্রতিরক্ষা রফতানির মতো বিষয়গুলোতে এখনো কিছু বিধিনিষেধ রয়ে গেছে।
সিরিয়ার নতুন সরকারের সাফল্য এবং দেশের সামগ্রিক পুনরুদ্ধারের জন্য এই অবশিষ্ট মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, রিয়াদের পক্ষ থেকে সিরিয়ার অর্থনীতিকে চাঙা করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি সৌদি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই দেশটিতে শতকোটি ডলারের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলোও সিরিয়া পুনর্গঠনে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ











