65089

আরাফাতের খুতবায় মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের আহ্বান জানালেন ইমাম

নিউজ ডেস্ক: আরাফাতের ময়দানে সমবেত লাখো হাজির উপস্থিতিতে পবিত্র হজের খুতবা দিয়েছেন ইমাম। গতকাল মঙ্গলবার মসজিদে নামিরা থেকে এই খুতবা দেন মসজিদে নববির ইমাম শেখ আলী আল-হুদাইফি। খুতবায় তিনি বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

মরুর তীব্র গরমের কারণে এদিন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরই মধ্যে আরাফাতের ময়দানে লাখো হাজি নামাজ আদায় করেন।

ads

খুতবা শেষ হওয়ার পর ইমাম আবেগঘন মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি হাজিদের হজ কবুল করার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য এবং হাজিদের নিরাপদে ঘরে ফেরার জন্য দোয়া করেন।

মোনাজাতে ইমাম বলেন, ‘হে আল্লাহ, আপনি মুসলিমদের অবস্থার উন্নতি করুন। তাঁদের মধ্যে ঐক্য তৈরি করে দিন এবং তাঁদের সত্যের পথে পরিচালিত করুন।’

ads

সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে জানা যায়, খুতবায় শেখ আল-হুদাইফি হজের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হজ হলো ইসলামের একটি মৌলিক স্তম্ভ। এর মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য।

ইমাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, হজ হলো বিশ্বের বিভিন্ন জাতি ও বর্ণের মুসলিমদের মধ্যে চেনা-জানা, সম্প্রীতি, সহযোগিতা এবং ঐক্যের গুরুত্বপূর্ণ মিলনমঞ্চ।

ইমাম তাঁর খুতবায় ইসলামের মূল স্তম্ভ এবং আল্লাহভীতির (তাকওয়া) গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি মুমিনদের জন্য আল্লাহর সাহায্যের চিরন্তন বিধান নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।

শেখ আল-হুদাইফি আরও বলেন, উত্তম আচরণ ও সত্য কথা বলার মাধ্যমে হজের পূর্ণতা আসে। এ ছাড়া তিনি গুনাহ, ঝগড়া-বিবাদ এবং রাজনৈতিক বা দলীয় স্লোগান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

হাজিরা ভোরবেলা থেকে মক্কার কাছে ৭০ মিটার উঁচু জাবালে রহমতে (রহমতের পাহাড়) সাদা ইহরাম পরিহিত অবস্থায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন। এই পাহাড়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।

প্রায় ১৪০০ বছর আগে মহানবী (সা.) এখানেই বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।

সৌদি আরবের সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানায়, খুতবা শেষে হাজিরা সুন্নাহ অনুযায়ী একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে (কসর) আদায় করেন।

এসপিএ জানায়, ইসলাম ধর্মে উল্লিখিত বিভিন্ন পবিত্র স্থানের মধ্যে মসজিদে নামিরা অন্যতম প্রধান নিদর্শন। কারণ, এই স্থানেই মহানবী (সা.) তাঁর বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।

নামিরা পাহাড়ের নামানুসারেই এই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। আরাফাতের ময়দান থেকে উত্তরে অবস্থিত এই মসজিদ মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। হজের জন্য নির্ধারিত পবিত্র বিভিন্ন স্থানের (মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফা) মধ্যে এটিই দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ।

সৌদি আরবের পরিবহন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক ও সমন্বয়কারী সংস্থা মক্কা জেনারেল ট্রান্সপোর্ট সেন্টার জানায়, এদিন সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটের মধ্যেই হাজিদের আরাফাতে পৌঁছানোর কাজ শেষ করতে হয়। গত বছরের তুলনায় এবার দুই ঘণ্টা আগেই এই যাতায়াত প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।

হাজিদের আনা-নেওয়ার জন্য শাটল বাস, সাধারণ যানবাহন এবং আল মাশায়ের আল মুকাদ্দাসাহ মেট্রোরেল ব্যবহার করা হয়।

ad

পাঠকের মতামত