ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের মধ্যে নতুন ঐক্যের আহ্বান ম্যাক্রোঁর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শুক্রবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার শীর্ষ নিরাপত্তা সম্মেলন ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’-এ ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে নতুন ধরনের ‘অ্যাকশন কোয়ালিশন’ বা যৌথ কার্যকরী জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনার মধ্যে একটি নতুন, নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এখন জরুরি।
ম্যাক্রোঁ বলেন, নন-আলাইন্ড বা নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার সময় শেষ। এখন এমন সময়, যখন কার্যকরী জোট গঠন করে একসাথে কাজ করতে সক্ষম দেশগুলোর একত্র হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু ও মিত্র এবং চীনের সাথেও আমরা সহযোগিতা করি—যদিও কখনো কখনো প্রতিযোগিতাও হয়। তবে এখন ইউরোপ ও এশিয়ার একটি অভিন্ন স্বার্থ আছে—তা হলো বৈশ্বিক শৃঙ্খলার ভাঙন রোধ করা।
ম্যাক্রোঁ তার মূল বক্তৃতায় চীনকে সতর্ক করে বলেন, উত্তর কোরিয়া যদি ইউক্রেনে রাশিয়াকে সহায়তা করতে যায়, তাহলে নেটো এশিয়ায় তার কার্যক্রম বাড়াতে বাধ্য হবে। “চীন যদি চায় না যে নেটো এশিয়ায় সক্রিয় হোক, তাহলে তাদের উচিত উত্তর কোরিয়াকে ইউরোপে যুদ্ধে জড়াতে না দেওয়া,” বলেন তিনি।
এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথও। তিনি জানান, তার এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার বার্তা দেওয়া এবং চীনকে সামরিকভাবে মোকাবিলার কোনও ইচ্ছা না থাকলেও প্রতিরোধের সক্ষমতা ধরে রাখা।
“আমরা কারো সাথে সংঘাতে যেতে চাই না, এমনকি চীনের সাথেও না। তবে আমরা আমাদের স্বার্থে দৃঢ় থাকব,” বলেন হেগসেথ।
সাধারণত এই সম্মেলনে অংশ নিতে চীন তাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে পাঠালেও এবার তারা কম গুরুত্বের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন পিপল’স লিবারেশন আর্মি ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল হু গাংফেং। তার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল এক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেবে যেখানে সমুদ্র নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে।
চীন এখনও তাইওয়ানকে নিজের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের কথাও উড়িয়ে দেয়নি। বর্তমানে চীনা রণতরী ও নজরদারি ড্রোন তাইওয়ান ঘিরে প্রতিনিয়ত মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে আরোপিত সম্ভাব্য ৩২% আমেরিকান ট্যারিফ এবং ট্রিপল ডিজিট চীনা ট্যারিফ নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এই অঞ্চলের সাথে বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে উৎসাহিত করছে।











