গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য প্রয়োজনীয় সব করতে প্রস্তুত চীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি স্থাপনে প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে চীন। মধ্যপ্রাচ্যে চীনের বিশেষ দূত ঝাই জুন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ঝাই জুন বর্তমানে বিপর্যস্ত গাজায় অবস্থান করছেন। সোমবার (২৩ অক্টোবর) চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গাজার পরিস্থিতি খুবই গুরুতর। তাছাড়া ইসরায়েল-হামাসের এ সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনার বিষয়টিও বেশ উদ্বেগজনক।
জানা গেছে, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ও যুদ্ধ বিরতি নিয়ে কাজ করতে চীনা এ প্রতিনিধি বর্তমানে গাজায় কুটনৈতিক সফরে রয়েছেন। ঝাই এরই মধ্যে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন।
রোববার (২২ অক্টোবর) কায়রোর শান্তি সম্মেলনে অংশ নেন ঝাই জুন। সে সময় তিনি বলেন, চীন সব মহলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে। আমরা চাই, গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও খুব শিগগির এ সংঘাত শেষ হোক। চীন বিশ্বাস করে, সহিংসতার জবাবে সহিংসতা শুধু প্রতিশোধের দিকে ধাবিত করবে।
চীন সব সময় ইসরায়েলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তবে দেশটি বরাবরিই ফিলিস্তিনিদেরও সমর্থন করে আসছে। সোমবারের সাক্ষাৎকারে ঝাই বলেন, ফিলিস্তিনের জরুরি সহায়তায় চীন সব সময় পাশে ছিল ও থাকবে। মানবিক এ সংকট উত্তরণের জন্য চীন জাতিসংঘ ও দ্বিপক্ষীয় মাধ্যম ব্যবহার করে কাজ করবে।
গত ৭ অক্টোবর সকালে ইসরায়েলে নজিরবিহীন রকেট হামলা শুরু করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সেদিন মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ইসরায়েলের দিকে ৫ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে সংগঠনটি। পরে হামাস যোদ্ধারা স্থলপথ, জলপথ ও আকাশপথে ইসরায়েলে ঢুকে পড়েন। তাদের হামলায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ইসরায়েলি নিহত হয়।
হামাসের হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল, যা এখনো চলমান। ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৬৫১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা











