কুমিল্লায় ৮১৪টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু
ডেস্ক রিপোর্ট: কুমিল্লা জেলার ৮১৪টি মন্ডপে আজ ষষ্ঠীপূজার মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে এ জেলায় শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে।
ষষ্ঠ তিথিতে মন্দিরের মন্ডপে মন্ডপে বিল্ব বৃক্ষ বা বেল গাছের পূজার মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে আবাহন করা হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দিনপঞ্জিকা অনুসারে এ বছর দুর্গাদেবী মর্ত্যে আসছে ঘোটকে চড়ে।

মন্দির গুলোকে সাজানো হয়েছে নানা রংবেরঙে আর বর্ণিল আলোকসজ্জায়। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে পালন করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে চলছে উৎসবের আমেজ।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে ২৪ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে ৫ দিনব্যাপী এ উৎসবের। এ দিন দুর্গাদেবী ভক্তদের কাঁদিয়ে ঘোটকে চড়ে মর্ত্যলোক ছেড়ে চলে যাবেন কৈলাসে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সহ-সভাপতি নির্মল পাল বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এবছর এ জেলায় ৮১৪টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আশা করছি প্রতিটি মন্ডপেই সস্প্রীতির মধ্য দিয়ে এবারের উৎসব সফলভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে শারদীয় দূর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান।

পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত দাস টিটু বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্য হচ্ছে; হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের নিয়েই এ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ।
সে অসাম্প্রদায়িকতা বজায় রেখেই সুন্দরভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে আমরা আশা করছি। ধর্ম যার যার উৎসব সবার। ধর্ম-বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে সকলকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি আপনারা পূজা মন্ডপে আসবেন, পূজা উপভোগ করবেন।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান বিপিএম (বার) বলেন, এবছর জেলায় ৮১৪টি মন্ডপে পূজা উদযাপন হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর পূজা মন্ডপগুলোতে বেশি পুলিশ সদস্য ফিক্সড ডিউটি পালন করছে। যে কোন সমস্যায় কুইক রেসপঞ্জের জন্য মটর সাইকেল টহল টিম ইন্ট্রোডিউস করা হয়েছে। থানা ভিত্তিক পর্যাপ্ত মোটরসাইকেল পেট্রল রয়েছে।
গূজা মন্ডপ সুরক্ষিত রাখতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তদারকির উপর। প্রত্যেকটি মন্ডপে থানার সার্কেল অফিসার, অফিসার ইনচার্জ, ইন্সপেক্টর তদন্ত পর্যায়ক্রমে তদারকি করছে। সনাতন ধর্মালম্বীদের ভলান্টিয়াররাও পর্যায়ক্রমে দ্বায়িত্ব পালন করছে। জেলার প্রায় শতভাগ পূজা মন্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে।
প্রত্যেক মন্ডপ ভিত্তিক এলাকার জনপ্রতিনিধি, পাশবর্তী মসজিদের ইমাম অথবা মুয়াজ্জিন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সনাতন ধর্মালম্বীদের নেতৃবৃন্দদের ১০ সদস্য বিশিষ্ট নিরাপত্তা সহায়তা কমিটি রয়েছে। তাঁরাও আইন শৃংখলা বাহিনী এবং পুলিশের পাশাপাশি মন্ডপের নিরাপত্তার দিকে খেয়াল রাখবে। আমরা আশা করছি কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বিঘ্নে এবারের শারদীয় উৎসব সার্বজনীন রূপ পাবে।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুঃ মুশফিকুর রহমান বলেন, সারাদেশব্যাপি বিপুল উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যদিয়ে শারদীয় দূর্গাৎসব অন্যান্য বছরের ন্যায় এ বছরও উদযাপিত হচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক। প্রত্যেকটি পূজামন্ডপে সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজামন্ডপে আনসার-বিডিপি, গ্রাম পুলিশ এবং পুলিশের সদস্য মোতায়েন রয়েছে। প্রত্যেকটি পূজা মন্ডপের সিসি ক্যামেরার সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সংযুক্ত থেকে যাতে মনিটরিং করতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সাথে উপজেলা পর্যায়ে প্রত্যেকটি কর্মকর্তাকে সুনির্দিষ্টভাবে পূঁজামন্ডপ ভিত্তিক দায়িত্ব প্রদান করেছি। সেটার সাথে সংঘতি রেখে আমাদের জেলা পর্যায়েও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি করে টিম থাকবে। তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবেন এবং জেলা প্রশাসক পুলিশ সুপার, বিজিবি, র্যাব, আনসারসহ আমরা সকলে পূঁজামন্ডপ গুলোতে তদারকিতে নিয়োজিত থাকবে। আশা করছি কুমিল্লায় সুন্দরভাবে শারদীয় দুর্গাউৎব আনন্দচিত্তে সকলে উদযাপন করতে পারবে।









